শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর নিয়ম

যেভাবে শিশুকে বুকের দুধ খায়াবেন

সন্তানের জন্মের পরপরই বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। মায়ের দুধ শিশুর প্রথম খাবার হওয়া উচিত। জন্মের পরে, অনেকে শিশুর মুখে চিনি এবং মিছরি পানি বা মধু তুলে দেন। এটা ঠিক না।  এতে শিশু সেই সময়ের প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। এ ছাড়া শিশুর পরিপাকতন্ত্র মধুর মতো খাবার হজমের উপযুক্ত থাকে না। তাই এতে কিছুটা বিপত্তির ঝুঁকি থাকে।

 

 আরও পড়ুন : ইসবগুলের ভুষি উপকারীতা ও অপকারীতা কি? – Isabgoler Bhusi

 


নবজাতক জন্মের পর ‘বুকের দুধ’ খায় না কেন ? শালদুধ কি?

নবজাতক জন্মের পর পরই বুকের দুধ টানতে চায় না। তবে আসতে আসতে অভ্যাস করাতে হবে। জন্মের প্রথম দুই-তিনদিন শিশু যে দুধ পায় তার নাম শালদুধ। এই শালদুধ শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি প্রস্তুত করবে তাই এই শালদুধ শিশুর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ । আর এই  শালদুধকে শিশুর প্রথম টিকা বলা হয় ।  কোষ্ঠকাঠিন্য এবং জন্ডিস থেকে শিশুকে রক্ষা করে এই শালদুধ। তাই জন্মের পর ০৪ ঘণ্টা থেকে০৬ ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে বুকের দুধ দেওয়া উত্তম।

শিশুকে কখন ‘বুকের দুধ’ দেবেন? কীভাবে দেবেন?

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে জাগার পরপরই শিশুকে বুকের দুধ দেওয়া উচিৎ। অনেকের শিশুকে কখন বুকের দুধ দেবেন? কীভাবে দেবেন? এ নিয়ে ভাবনার শেষ নাই। বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হল চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা। অর্থাত্, যখনই শিশু ক্ষুধার্ত হয় বা ক্ষুধার কারণে কান্নাকাটি করে বা দীর্ঘ সময় ঘুমের পরে জেগে ওঠে তখনি শিশুকে মায়ের বুকের দুধ দেওয়ার ভালো। তবে শিশুরা সাধারণত ০২ঘণ্টা  বা  ০৩ ঘণ্টা পর খেতে চায়। প্রতিবারে খাওয়ানো সময় 10 থেকে 15 মিনিটের বেশি হওয়া উচিত নয় ।। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বাচ্চাকে মাথা উচু করে নিয়ে বা কোলে নিয়ে খাওয়ানো উচিত। চিৎ করে শুইয়ে খাওয়ানোর ঠিক নয়। শুয়ে খাওয়ানোর কারণে দুধটি মুখ দিয়ে কানে যেতে পারে কা এবং কান পেকে যেতে পারে।

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর মুখটি মায়ের স্তনবৃন্ত বা কালো অংশের বেশিরভাগ অংশ cover করে দেবে এবং ঠোঁট বাইরে থাকবে। প্রথমে যদি বাচ্চা দুধ পান করতে না চায় তবে প্রয়োজনে মা তার হাত দিয়ে বাচ্চার ঠোঁটে কিছুটা দুধ দিতে পারেন। স্তনবৃন্ত যদি শিশুর মুখ স্পর্শ করে তবে শিশুটি দুধের সন্ধান করবে। তবে আপনার তাড়াহুড়া করা উচিত নয়, শিশু মুখ হ্যাঁ করলেই আপনার খাওয়া উচিত।

শিশুর জন্মের পরে মায়ের ‘বুকের দুধ’ না থাকলে করনিয় কি ?

প্রমমে বলতে চাই মায়ের বুকের দুধ তৈরির একমাত্র উপায় শিশুর মাধ্যম বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমেই তৈরী হবে।। ফর্মুলা দুধ শিশুকে দেওয়া ঠিক না। কারণ শিশু দুধ না টানলে বুকের দুধ নামবে না। এবং আসতে আসতে মায়ের দুধকে আরও কমিয়ে দিবে এবং শিশুর বুকের দুধ থেকেও বঞ্চিত হবে। জন্মের প্রথম দিনটিতে অনেক সময় নানা কারণে নবজাতক পর্যাপ্ত বুকের দুধ নাও পেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে উদগ্রীব হওয়ার কিছু নেই। এই সময় উদ্বেগের কারণে অনেকে শিশুর মুখে ফিডারে বা প্যাকেটজাত দুধ তুলে দেয় যোটা একদম ঠিক না। এ সময়ে কৌটার দুধ যদি দিতেই হয়, তারপরও ফিডারে দেয়া ঠিক হবে না।  আপনাকে এটি চামচ করে দিতে হবে, তাও কেবল সেদিনের জন্য । এ বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কিছু করা ঠিক হবে নয়।

শিশুকে ফিডার দুধ খাওয়ানো কি ঠিক ?

প্রথম দিন শিশুকে ফিডার দিলে সেই শিশু পরবর্তীকালে আর বুকের দুধ টানতে চায় না। কারণ, ফিডারের চেয়ে বুকের দুধ টেনে পান করাটা তার কাছে কষ্টসাধ্য মনে হয়। এ জন্য শিশুকে ফিডারের অভ্যাস না করাই ভালো। এ ছাড়া ফিডারের জন্য পেটের পীড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বুকের দুধ’এ সেই রকম ঝুঁকি নেই বললেই চলে। প্রতিবার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পর কাঁধের উপরে মাথা রেখে শিশুটিকে উপুর দিকে রাখতে হবে এবং পিঠে হালকাভাবে থাপ্পর মারতে হবে। কিছুক্ষণ এভাবে করার পর শিশু ঢেঁকুর তুলবে। ঢেঁকুর তোলার পর শিশুকে শুইয়ে দিতে হবে। আপনি যদি নিয়মিত এই কাজটি করেন তাহলে খাওয়ার পরে শিশুর বমি হবে না

নবজাতকের জন্য বুকের দুধ একটি ভাল প্রাকৃতিক খাবার। শিশুর জন্মের পরে প্রথম ছয় মাস, চিকিৎসকরা কেবলমাত্র তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বুকের দুধ শিশুর সম্পূর্ণ পুষ্টি চাহিদা সরবরাহ করে। তবে সঠিকভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো খুব জরুরি। আজকের মত এখানেই কথা হবে নতুন কোন বিষয় নিয়ে।

আরও পড়ুন : নারি পুরুষ যৌন রোগের হোমিওপ্যাথি কার্যকরী ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা

Leave a Comment