অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই ২০২১

জন্ম নিবন্ধন কি ?

একটি শিশু জন্মের পরে সরকারী রেজিস্টারে প্রথম নাম লিখনিকেই বলে জন্ম নিবন্ধন। সন্তানের জন্ম সম্পর্কে দেশেকে আইনত অবহিত করার একমাত্র উপায় হ’ল জন্মের পরে জন্ম নিবন্ধন করা। নবজাতকের নাম এবং জাতীয়তা রয়েছে তা নিশ্চিত করার এটি প্রথম আইনী পদক্ষেপ। জন্ম নিবন্ধন প্রাপ্তবয়স্কদের সহ প্রতিটি সন্তানের একটি জাতীয় অধিকার। এটি মুলত  নাগরিক অধিকারের শ্রেণিতে পড়ে। পৃথিবীতে জন্মের পরে কোনও শিশু তার দেশ বা রাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত প্রথম স্বীকৃতি হলো জন্ম নিবন্ধন। তাই আজকে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই ২০২১ বিস্তারিত আলোচনা করতে চাচ্ছি।

 

জন্ম নিবন্ধনে নাগরিকত্ব লাভ

একটি শিশু এই জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে সমান অধিকারের সাথে দেশের অন্যান্য নাগরিকদের মতই নাগরিকত্ব লাভ করে। শিশুদের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের কনভেনশনে (সিআরসি) প্রথম জন্ম নিবন্ধনের অধিকারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জন্ম নিবন্ধের মাধ্যমে একটি শিশু একটি ‘নাম’ অর্জন করে যা তাকে সারা জীবন পরিচিতি লাভ করতে সাহাজ্য করে। একটি শিশু জন্ম নিবন্ধের মাধ্যমে প্রথম নাগরিকত্বও অর্জন করে।

বাংলাদেশ সরকার জন্ম সনদকে অপরিহার্য করার লক্ষ্যে নতুন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধকরণ আইন 2004 প্রণয়ন করা হলেও  জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনটি 3 জুলাই 2006 সাল থেকে কার্যকর করা হয়।

জন্ম নিবন্ধন আইন

জন্ম নিবন্ধন আইনে বলা হয়েছে যে বয়স, বর্ণ, ধর্ম বা জাতীয়তা নির্বিশেষে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে জন্ম নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নিবন্ধকের কাছে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করবে। সরকার ইতিমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক জন্ম নিবন্ধকরণ কৌশল তৈরি করেছে যা ২০১০ সালের শেষের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।

প্রতিটি  ব্যক্তির অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন হয়েছে কিনা তা সহজেই যাচাই করা যায়। যদি কোন ব্যক্তির অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করা থাকে তাহলে খুব সহজেই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনে নিদিষ্ট  ওয়েবসাইটে  সার্চ করে জন্মনিবন্ধন তথ্য যাচাই করা যায়। জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে নিচের ধাব গুলো অনুশরন করুন।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই

জন্ম নিবন্ধন দেখব

জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে তথ্য ডাউনলোডের জন্য বা অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে প্রথমে আপনাকে বাংলাদেশ সরকার বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সাইট bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে অনলাইন জন্ম নিবন্ধকরণ তথ্য সিস্টেমে ভিজিট করতে হবে। ওয়েবসাইট ভিজিট করতে এই https://bdris.gov.bd/br/search লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন,  অথবা গুগলে “জন্মনিবন্ধন তথ্য যাচাই” লিখে সার্চ করে এই লিংকে প্রবেশ করতে হবে। তারপরে নীচের পৃষ্ঠাটি উপস্থিত হবে। লিঙ্কটিতে ক্লিক করলে নীচের পৃষ্ঠাটি খুলে যাবে।

এবার যে ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা হবে তার ১৭ নম্বর জন্ম নিবন্ধের নম্বরটি উপরের ঘরে টািইপ করুন। এবং সেই ব্যক্তির জন্ম তারিখটি নিচের ঘরে টাইপ করুন। জন্ম তারিখটি কীভাবে লিখবেন ধরুন আপনার জন্ম তারিখ ১২/০৭/২০২১ এভাবে লিখুন অথবা নিচের ছবিতে দেখুন।

এবার অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করুন।

যদি সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে নিচের ছরি মত বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন।

আর যদি No birth record found with this ubrn লেখা দেখতে পান বা নিচের ছবির মত দেখতে পান, তাহলে বুঝবেন যে ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই করতে চাচ্ছেন তার জন্ম নিবন্ধন নাম্বার অথবা জন্ম তারিখ এ দুটির মধ্যে কোথাও ভুল থাকবে পারে আবার চেক করে ভালো ভাবে টাইব করুন।

 

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন কোথায় কোথায় প্রয়োজন হয়?

১। পাসপোর্ট ইস্যু
২। বিবাহ নিবন্ধন
৩। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি
৪। সরকারী, বেসরকারী বা স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় নিয়োগদান
৫। ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু
৬। ভোটার তালিকা প্রণয়ন
৭। জমি রেজিষ্ট্রেশন
৮। ব্যাংক হিসাব খোলা
৯। আমদানি ও রপ্তানী লাইসেন্স প্রাপ্তি
১০। গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি
১১। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি
১২। ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রাপ্তি
১৩। বাড়ির নক্সা অনুমোদন প্রাপ্তি
১৬। গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্তি
১৫। ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি ও
১৭। জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি।

জন্ম নিবন্ধনে ভোগান্তি

২০২১ সালে থেকে জন্ম নিবন্ধন করতে অনেকটা ভোগান্তি ভুকতে হচ্ছে কারন। 2001 সালের পরে যারা জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য পিতামাতার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যে কারনেই অনেকট বিপাকে পড়তে হচ্ছে অনেক কে।

এর আগে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করতে পিতামাতার জাতীয় পরিচয় কার্ড নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করা যেত। ১ জানুয়ারি ২০২১ নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরে অনেক অভিভাবক সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য তাদের বাচ্চার জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে আটকে পড়ছে। কারন প্রথমে তাদের (বাবা মায়ের) জন্ম নিবন্ধন করতে হবে, তারপরে সন্তানের জন্ম সনদ করতে পারবে।

জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম

শুরুতেই বলে রাখি জন্ম নিবন্ধন করতে আপনার কি কি কাজ প্রয়েজন হবে।  আগের থেকে জানা থাকলে সহজে সব কাগজ সংগ্রহ করতে পারবেন।

জন্মের দিন থেকে থেকে ৪৫ দিন বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য যা যা লাগবে।

১। টিকার কার্ড
২। পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র
৩। চৌকিদারী ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ ও বাসার হোল্ডিং নম্বর ।
৪। আবেদনকারী/অভিভাবকের মোবাইল নম্বর
৫। ফরমের সঙ্গে ১ কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি।

৪৬ দিন বয়স থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্ম নিবন্ধন করতে যা যা লাগবে।

১। ‘টিকার কার্ড/স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যয়নপত্র স্বাক্ষর ও সিলসহ প্যাডে হতে হবে’
২। ‘পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র’
৩। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ‘স্কুলের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নসহ বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নের সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট’ লাগবে
৪। বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারী ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ
৫। আবেদনকারী/অভিভাবকের মোবাইল নম্বর
৬। ‘ফরমের সঙ্গে এক কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি।’

বয়স ৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্ম নিবন্ধন করতে যা যা লাগবে।

১। ‘শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট (PSC/JSC/SSC) শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র না থাকলে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত এমবিবিএস ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রত্যয়ন পত্র এবং জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমের ৭ এর ১ নং কলামের স্বাক্ষর ও সিল থাকা বাধ্যতামূলক।’
২। যাদের জন্ম   ১ জানুয়ারি  ২০০১ সালের পর তাদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধন সহ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
৩। যাদের জন্ম ১ জানুয়ারির ২০০১ সালের  আগে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
৪। যদি ২০০১ সালের আগে জন্ম  হয় সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা মৃত হলে মৃত্যু সনদ থাকা বাধ্যতামূলক।
৫। যাদের জন্ম ১ জানুয়ারির ২০০১ সালের  পর তাদের পিতা-মাতা মৃত হলে প্রথমে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন তৈরী করার পর অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন সনদ তৈরী করতে হবে। উভয় সনদ আবেদন পত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
৬। বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারী ট্যাক্সের রশিদের হাল সন
৭। আবেদনকারী/অভিভাবকের মোবাইল নম্বর
৮। ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি
৯। আবেদনের সঙ্গে কাগজপত্র সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য/নারী সদস্যদের স্বাক্ষরসহ সিল বাধ্যতামূলক

এবার আসি জন্ম নিবন্ধন নিয়ে অন্যান্ন বিষয় গুলো নিয়ে

আপনি কি ভাবছেন জন্ম নিবন্ধন করবেন, আর নয় ভাবনা সহজেই করতে পারছেন জন্ম নিবন্ধন, দেশ এখন ডিজিটাল, আপনি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে / অনলাইন পরিষেবা / দোকানে বা আপনার মোবাইলে ঘরে বসেই নিজের বা আপনার সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন সক্রান্ত গুরুত্বপূর্ন লিংক গুলো দিলাম এখানে। লিংক গুলোতে ভিজিট করলেই আপনি বিস্তারিত বুঝতে পারবেন। এই সব বিষয় নিয়ে লিখতে পারলাম না কারন এই জনা নিবন্ধন যাচাই নিয়ে করা।

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

আপনি যদি জন্ম নিবন্ধন নতুন আবেদন করতে চান তাহলে এই লিংকে প্রবেন করুন – http://bdris.gov.bd/br/application

জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন

জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন করতে এই লিংকে প্রবেশ করুন-  http://bdris.gov.bd/br/correction

জন্ম নিবন্ধন তথ্য অনুসন্ধান

জন্ম নিবন্ধন তথ্য অনুসন্ধান করতে এই লিংকে প্রবেশ করুন – http://bdris.gov.bd/br/search

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা

আপনার পূর্বের  জন্ম নিবন্ধনের যে কোন আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখুন এই  লিংকে প্রবেশ করে – http://bdris.gov.bd/br/application/status]

জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করতে

জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট বা জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করতে এই লিংকে প্রবেশ করে – http://bdris.gov.bd/application/print

জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনঃ মুদ্রন

জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনঃ মুদ্রন করতে  এই  লিংকে প্রবেশ করে – http://bdris.gov.bd/br/reprint/add

জন্ম নিবন্ধন হেল্পলাইন

জন্ম নিবন্ধন হেল্পলাইন নম্বর হলো  ১৬১৫২ এই নম্বরে কল করে আপনি আপনার কাঙ্খিত সেবাটি নিতে পারেন।

জন্ম নিবন্ধন লগইন

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে যারা কর্মরত আছেন শুধু মাত্র তারাই জন্ম নিবন্ধন লগইন করতে পারবেন কারন তাদের কাছে টিএও কতৃক ইউজার আইডি ও পাসওয়াড দেওয়া হয়।

1 thought on “অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই ২০২১”

Leave a Comment