নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম

বাংলাদেশের সকল নাগরিকে এদেশের নাগরিক হিসাবে প্রমান করা জন্য এক মাধ্যম হল পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড যা সংক্ষেপে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি নামে পরিচিত।

এটি দেশের অভ্যন্তরে নিজের পরিচয় প্রমাণ করার প্রধান মাধ্যম। একজন মানুষের ১৮ বছর বয়স পূর্ন হওয়ার সাথে সাথে আইডি কার্ড জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম অন্তরভুক্ত করা নিয়ম রয়েছে। শুধু তাই না বাংলাদেশে সবার জন্য ভোটার আইডি থাকা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সরকার।

সুতরাং ভোটারদের মধ্যে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। আর এই আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র ইলেকশন কমিশন বাংলাদেশ কার্ড ইস্যু করা সহ সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

নতুন ভোটার কীভাবে হবে বা ভোটার হতে কী লাগে বা এনআইডি পাওয়ার প্রক্রিয়া কী তা নিয়ে আজকে আমাদের এই পোস্টটিতে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই আমি আশা করি আপনারা সম্পুর্ন পোস্টটি ভালো ভাবে পড়লে আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

নতুন ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম

নতুনভোটারনিবন্ধন ২০২১সময়সূচী

নতুন ভোটার সাধারণত তিন বছর পর পর একটি শুমারি মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে থাকে । এ সময় “নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ” এর  লোকজন ঘরে ঘরে গিয়ে নতুন ভোটার হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরী নিবন্ধন করে দেয়

এবং নিদিষ্ট সময় পর ইউনিয়ন ওয়ার্ডের সবাইকে এক জায়গায় করে ছবি তোলা হয়। পুরো থানা বা উপজেলার একই ভাবে সবার ছবি তোলার পরে কিছু দিনের মধ্যে ইউনিয়নের পরিষদের মাধ্যমে আইডি কার্ড বিতরন করা হয়।

বিভিন্ন কারনে আদম শুমারিতে যারা বাদ পড়ে যায়  তারাও যাতে ভোটার হতে সে কারনে অনলাইনে আবেদন করারও সুযোগ রয়েছে। তারাও অনলাইনের কোন দোকানে বা নিজেই সঠিক ভাবে আবেদন ফরম পূরণের মাধ্যমে নতুন ভোটার হতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসের  শেষে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করে থাকে।

অনলাইন ভোটার নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ১৮ বছর বয়স পূর্ন হলে যে কেউ  নতুন ভোটার নিবন্ধন করতে পারেন। আর ১৮ বছর বয়স হলে অবশ্যই অনলাইন ভোটার নিবন্ধন করা উচিৎ কারণ আপনি যদি সময় মতো ভোটার হতে না পারেন তবে আপনাকে পরে অনেক হয়রানি শিকার হতে হবে।

এছাড়া আপনি অনেক অফিসিয়াল কাজ যেমন: জমি ক্রয় বিক্রয়, চাকুরী বাকরির আবেদন ইত্যাদি করতে পারবেন না। তাই সময় মত নতুন ভোটার নিবন্ধন করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে আমি মনে করি।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম ২০২১

এখন আপনি খুব সহজেই অনলাইনে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন পূর্বে প্রয়োজনী কিছু কাগজ স্কান করে নিন যা আপনাকে ফরম পূরণ শেষে আপলোড করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, পিতামাতার ভোটার আইডি কার্ড, আপনার জন্ম নিবন্ধন কার্ড, সকল শিক্ষাগত সনদ, রক্তের গ্রুপ।

কারণ আপনি যদি আবেদনের সময় সঠিক তথ্য সরবরাহ না করেন তবে আপনার আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। এমনকি ভূল তথ্য দেওয়ার কারনে জরিমানাও হতে পারে। শুধু তাই না আপনি পরে ভোটার হওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন। সুতরাং আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য সরবরাহ করুন।

আপনার কাছে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ না থাকলেও আপনি আপনার হাতে স্মার্টফোনটি দিয়ে অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন আবেদন করতে পারেন। তবে আমি মনে করি আপনি অনলাইন ফরম পূরণে নতুন হলে নিজে না করাই ভালো।

সব সময় মনে রাখবেন কোন ভাবেই আবেদন করার সময় ভূল তথ্য সরবরাহ করা যাবে না।

আরও পড়ুন

 

ফেসবুক থেকে ভিডিও ডাউনলোড

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই ২০২১

ইসবগুলের ভুষি উপকারীতা ও অপকারীতা কি?

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড ফরম পূরণ

বি:দ্র: আমাদের এই পোস্টটি সর্বশেষ অঅপডেট করা হয়েছে ২১-১০-২১ইং তারিখে নতুন কোন নিয়ম আসলে আবারও আপডেট করা হবে।

কম্পিউটার / ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের ইন্টারনেট ব্রাউজারটি খুলুন এবং নীচের পদ্ধতি অনুসরণ করে অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন পূরণ করুন করুন।

প্রথমে এই লিঙ্কটি https://services.nidw.gov.bd/new_voter এ যান। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল সার্ভিস সাইটটি উন্মুক্ত হবে। এই পেজে যা দেখছে সব কিছু ভালো ভাবে পড়ুন এবং এই এগুলোর মর্ম ঝুজার পরে নিচের দিকে “আমি রাজি এবং নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে চাই’ বাটনে ক্লিক করুন।

আমি আবারও বলছি আপনি প্রয়োজনে এই পেজে থাকা সমস্ত লেখা ভালো ভাবে পড়েই কেবল মাত্র “আমি রাজি এবং নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে চাই’ বাটনে ক্লিক করুন। নিচের ছবিটি দেখুন।

এ পর্যায়ে আপনি নিচের মত একটি  ফরম দেখতে পাবেন। এখানে লেখা সমস্ত কিছু পড়ে ফরমটি পূরণ করুন। প্রথম ঘরে আপনার পুরো নাম ইংরেজিত লেখুন। এবং দ্বিতীয় ঘরে জন্ম তারিখ দিন মাস বছর আকারে লিখুন এবং ত্বিতীয় ঘরে ক্যাপচা কোড দিন। এরপর বহাল বাটনে ক্লিক করুন।

এই ধাবে আপনার কাছে একটি সচল মোবাইল নম্বর চাওয়া হবে । আপনি সেখানে সঠিক ভাবে আপনার মোবাইল নম্বরটি লেখুন। এবং ‘বার্তা পাঠান” বাটনে ক্লিক করুন। নিচের ছবিটি দেখুন।

 

এবার নিচের ছবির মত সকল তথ্য সঠিক ভাবে পূরণ করুন যদি নিজে করতে না তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে করুন আমার অনলাইন সার্ভিজ দোনাক থেকে আমরা এই কাজ গুলো করে থাকি।

আপনি চাইলে আমাদের দোকান থেকে মূল্য পরিশধের মাধ্যমে করে নিতে পারেন। তবে আমি মনে করি আপনি নতুন হলে সব কাজ করলেও ফরম টি আমাদের কাছ থেকে করে নিতে পারেন।

ছবিটি দেখুন

সম্পুর্ন ফরম সঠিক ভাবে পূরণের পরে উপরে ডান দিকে লক্ষ করুন ডাউনলোড বাটন দেখতে পাবেন সেখান ক্লিক করে নিবন্ধন ফরম (ফরম-২) ফরমটি ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় জায়গায় স্বাক্ষর নিয়ে সাথে প্রয়োজনীয় কাগজ সংযুক্ত করে নিজ নিজ উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিশে জমা দিয়ে আসুন।

নির্বাচন অফিস থেকে আপনাকে একটি স্লিপ দেওয়া হবে এটি ভালো ভাবে সংরক্ষন করুন, কিছু দিনের মধ্যে আপনাকে ছবি তোলার জন্য ডাকা হবে। ব্যাস আপনার কাজ শেষ নিদিষ্ট সময় পরে আপনার কাছে এসএমএস চলে আসবে।  এবং ভোটার লিষ্টে নাম চলে আসবে।

এবার দেখুন এসএমএস পাওয়ার পরে কিভাবে আপনি অনলাইন থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করবেন।

স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড

আরও পড়ুন

 

অডিও গান ডাউনলোড

১ম শারীরীক মিলনে রক্তপাত হয় কি?

বাচতে হলে এই যৌন রোগ গুলো থেকে সাবধান

নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে

জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করেও যারা এখনও ভোটার আইডি কার্ড পান নাই। তারা চাইলেই অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করে থাকেন।

তাহলে নির্বাচন কমিশন থেকে আপনাকে একটি স্লিপ দেওয়া হয়েছিল।  জাতীয় পরিচয় পত্র ডাউনলোডের ক্ষেত্রে স্লিপ নম্বরটি লাগবে।  কিভাবে ডাউনলোড করবেন তা নিচের ধাব গুলো দেখুনৰ

প্রথম ধাপঃ- জাতীয় পরিচয় পত্র Pdf ফরমেটে ডাউনলোড করতে আপনাকে শুরুতে গুগল NID Wallet অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে।  ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন।

দ্বিতীয় ধাপঃ- এবার এই লিংকে https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/claim-account প্রবেশ করুন। প্রথম ঘরে আপনার স্লিপ নম্বরটি দিন। দ্বিতীয় ঘরে দিন মাস বছর এভাবে জন্ম তারিখ বসান। এব ত্বিতীয় ঘরে ক্যাপচা বসিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।

ত্বিতীয় ধাপঃ- এপর্যায়ে আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার বিভাগ, জেলা, উপজেলা নির্বাচন করুন। সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।

চতুর্থ ধাপঃ- এবার আপনার মোবাইল নম্বর টি দিন। যদি আগেই দেওয়া থাকে তাহলে বহার বাটনে ক্লিক করুন। কিছুক্ষনের মধ্যেই আপনার ফোনে ৬ সংখ্যার একটি পিন আসবে। পরের পেজে সেই পিন টি দিয়ে বহাল বাটনে ক্লিক করুন।

পঞ্চম ধাপঃ- এই পেজে আপনাকে একটি QR Code দেওয়া হবে সেটি আপনার NID Wallet অ্যাপ দিয়ে স্কান করে আইডি ধারীর মুখের দিকে ধরতে হবে। আপনার মোবাইল স্ক্রিনে দেখানো হবে আপনি কিভাবে আইডিধারীর ফেজ স্কান করবেন না অনুসরন করুন।

সষ্ঠ ধাপঃ- এ পর্যায়ে দেখুন আপনাকে ইজার নাম এবং পাসওয়াড সেট করতে বলা হচ্ছে। আপনি সেট করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।

জাতীয় পরিচয় পত্র pdf ডাউনলোড

সস্তম ধাপঃ- এখন দেখুন আপনার ফটো দেখতে পাচ্ছে তার বিস্তারীত বাটনে ক্লিক করুন। এবং উপরে ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন । আপনার আইডি কার্ড Pdf ফরমেটে ডাউনলোড হবে যাবে।

এবার এই কার্ডটি প্রিন্ট করে লেমেনিটিং করে নিন হয়ে গেল আপনার কাংক্ষিত আইডি কার্ড তৈরী।

বিঃদ্রঃ অযথা নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটে ভিজিট করা থেকে বিরত থাকুন। নিজে না পারলে ইন্টানেট সার্ভিস আছে এমন দোকান থেকে করে নিতে পারেন। আমাদের কাছ থেকেও করে নিতে পারেন।

নতুনভোটারনিবন্ধন ২০২১সময়সূচী

জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

কেবলমাত্র যারা জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য 2017/2018/2019/2020 সালে আবেদন করেছেন এবং তাদের এনআইডি কার্ড / জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পান নাই শুধু মাত্র তারাই এই আইডি কার্ড Pdf ফরমেটে বা জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন।

মনে রাখবেন যে জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে আপনার বয়স ১৮ বছর হতে হবে অন্যথায় আপনি জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন না।

যারা অনেক আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করেছেন তবে তাদের কার্ড এখনও হাতে পাননি তারেও এখান থেকে তাদের কার্ডটি ডাউনলোড করতে পারেন।

এখানে উল্লেখ্য যে যারা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের হাতে পেয়েছেন তারা অনলাইন থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন না।

এই ক্ষেত্রে, আপনি যদি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র না পেয়ে থাকেন তবে আপনাকে অবশ্যই পুনরায় ইস্যু করার জন্য ফি পরিশতের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে এবং তারপরে অনলাইন থেকে আপনার কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।

3 thoughts on “নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম”

Leave a Comment