ভালো কিছু উপদেশ ও বানী

পূর্বে বড় বড় জ্ঞানী মনীষী কিছু কথা বলে গেছেন যা  সর্নাঅক্ষরে এখনও লেখা রয়েছে এগুলো মেনে চলতে পারলে আমরা সাফল্য অর্জন বা সুখি হওয়ার পথ খুজে পাব। আর এমনি একজন জ্ঞানী মনীষী কিছু বানী নিয়ে অঅজকের পোস্ট ভালো কিছু উপদেশ ও বানী পোস্ট সাজানো হয়েছে।

এ জন্য যুগযুগ ধরে মহাঋষিরা বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে এসেছেন।আর এই নির্দেশিকাগুলো অনুসরণ করে অনেকে তাদের জীবনকে আলোকিত করেছেন। তাদের মধ্যে একজন মিয়ামোতো মুশাসি, তার জন্ম হরিমা প্রদেশ বা মিমাসাকা প্রদেশ জাপানে। তার আরও কিছু নাম রয়েছে যথা নিতেন দারাকু; শিনমেন মুসাশি না কামি ফুজিওয়ারা না হারুনোবু

মিয়ামোতো মুশাসি
মিয়ামোতো মুশাসি

মিয়ামোতো মুশাসি হলেন এমনি এক দিক নির্দেশক যিনি ছিলেন একজন জাপানিচ বৌদ্ধ ধর্মের গুরু। তার মৃত্যুর সপ্তাহ দুয়েক আগে তিনি আজকের আর্টিকেলে শেয়ার করা এই ২১টি জীবন বিধি ব্যক্ত করেন।যা মানুষের জীবনে সফলতা খুজে পেতে সাহায্য করে।

এই নিয়ম নীতি গুলো আপনি হলেও আপনার জীবনে প্রয়োগ করে নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবেন। এই আদর্শগুলো আপনার চিন্তা ভাবনাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। আপনি যদি বিপথগামীও হয়ে থাকেন, তবে এই ২১টি জীবন বিধি পড়লে সঠিক পথের নিশানা পাবেন আশা করি। মোাট কথা আপনার জীবন আনন্দময় আলোকিত হতে সাহায্য করবে।

 

১. বাস্তবতা মেনে নিন

সবকিছু গ্রহণ করতে পারা একটি ভালো গুণ। এটি আপনাকে সব ধরনের মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় শক্তি দেয়। নিজেকে আরও শক্ষ হতে সহায়তা করে।

২. নিজেকে অধিক আনন্দে মাতাবেন না

একজন মানুষ হিসেবে আমরা তখনই অসুখী যখন আমাদের যা আছে তাতে সন্তুষ্ট হতে পারি না এবং আরও অধিক প্রত্যাশা করি। মানুষের চাহিদার শেষ নেই, আমাদের একটি ইচ্ছা পূরণ হলে আরেকটা পাওয়ার আকাঙ্খা জাগবে। আমরা শুধু  বারবার পেতেই চাইবো। এটাকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর অর্থ এইটা যে, আমরা সুখি বা আনন্দ করবো না! বা এর অর্থ হলো আমরা সব সময় সুখ প্রত্যাশা করতে পারি না, কিন্তু আমরা আমাদের প্রতিটি মুহূর্তকে  আনন্দময় করে তুলব।

ভালো কিছু উপদেশ ও বানী
ভালো কিছু উপদেশ ও বানী

৩. জীবন পরিচালনার জন্য ক্ষণিকের অনুভূতি বা আবেগের প্রতি বসবর্তি হবেন না

আমাদের অনুভূতি এবং আবেগ স্থায়ী নয়। তাই আবেগের উপর ভিত্তি করে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না বরং চিন্তা, বিবেক এবং বুদ্ধির সাহায্য নিন। অবেগের বসবর্তী হয়ে কোন কাজ করলে তা ভুল হতে পারে। আর একটি  ভূল কাজ আপনার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।

৪. নিজের চেয়ে বিশ্ববাসীর জন্য চিন্তা করুন

চীন দেশের একটি প্রবাদ বাক্য আছে, ‘আপনি যদি ১ ঘন্টার জন্য সুখ আশা করে বা পেতে চান তাহলে ঘুমিয়ে পড়ুন।  যদি একদিনের জন্য আনন্দ বা সুখ পেতে চান তবে মাছ ধরে সময় কাটিয়ে দিন। যদি এক বছরের জন্য সুখময় সময় কাটাতে চান তবে একটি ভাগ্যকে গ্রহণ করুন ।  আর যদি সারাজীবনের জন্য সুখ পেতে চান তাহলে অন্যকে সাহায্য করুন।’ তাই আপনি যদি সত্যিই সুখী হতে চান, তাহলে মানবজাতীর জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিন। মানুষের কল্যাণে নিজেকে উদার করে দিন।

৫. আকাঙ্খার দাসত্ব করবেন না

অধিক আকাঙ্খা আপনাকে যন্ত্রণা এনে দিবে,আপনি আপনার বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট হতে পারবেন না। ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তাই কখনোই আকাঙ্খার দাস হবেন না।

৬. যা ঘটে গেছে তার জন্য চিন্তিত বা দুঃখিত হয়ে সময় নষ্ট করবেন না।

এটা সত্য যে, যা ইতিপূর্বে ঘটে গেছে তা আপনি শত চেষ্টা করেও পরিবর্তন করতে পারবেন না। ঘটে যাওয়া তা ঘটে গেছে। কোনো বিষয় নিয়ে যদি চিন্তিত বা দুঃখিত হন তবে তা আপনার আগামী দিনের সুখ, আনন্দ ও সাফল্যকে ক্ষকিগ্রস্থ করে দিতে পারে। তাই কখনোই কোনো ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে চিন্তিত ও দুঃখিত হবেন না।

৭. কখনও ঈর্ষান্বিত হবেন না

অন্যের সুখ দেখে আপনি যদি অসুখী বোধ করেন বা অন্যের ভাল দেখে আনন্দ করতে না পারেন! তাহলে আজ এই অভ্যাস  পরিত্যাগ করুন। নিজের দিকে তাকান এবং আপনার যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন।

৮. বিচ্ছেদকে মেনে নিন

পৃথিবীতে সবকিছু আপনার ইচ্ছানুযায়ী হবে না। তাই আপনি হয়তো ভাবেন, এই বিষয় বা ব্যক্তি আপনার সাথে থাকা প্রয়োজন কিন্তু হঠাৎ যদি এগুলো হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তবে এই বিচ্ছেদকে মেনে নিন।

৯. বিরক্তি ভাবকে প্রশ্রয় দিবেন না

আপনাকে বিভিন্ন রকম পরিস্থিতি থেকে শিখতে হবে। কঠিন কোন মুহূর্তের সম্মুখীন হলে ভেঙে পড়বেন না। এমনকি অন্যের দিকে অভিযোগও করবেন না বরং বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন। এতে ভবিষ্যৎ এ রকম কোনো  একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে, আপনি নিজেই সহজেই এটি সমাধান করতে পারেন।

১০. ইন্দ্রিয় লালসার ক্রীতদাস হবেন না

লালসার অনুভূতি মানুষকে হয়তো তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয় ঠিকি  কিন্তু পরক্ষণেই আপনাকে যন্ত্রণাগ্রস্থ/ক্ষতিগ্রস্থ করে তুলবে। তাই লালসায় পরবেন না।

১১. পক্ষপাতদুষ্ট হবেন না

পক্ষপাতিত্ব বা কুসংস্কার আপনার বিবেককে অকার্যকর করবে। আপনি তখন অন্ধভাবে কিছু অনুসরণ করা জন্য চেষ্টা করবেন। তাই এই ধরনের মানসিকতা থেকে যততা সম্ভব নিজেকে দুরে সরিয়ে নিন।

১২. নিজেকে একই স্থানে অবরুদ্ধ রাখবেন না

সকল স্থান আপনার জন্য উপযোগী হবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই নিজেকে একইস্থানে আটকে রাখবেন না। চারিদিকে আপনার সুযোগ-সুবিধাগুলো অনুসন্ধান করুন।  আপনার উপযুক্ত প্রতিবেশ খুঁজে নিতেই হবে।

এটা স্বাভাবিক যে সব জায়গা আপনার জন্য উপযুক্ত হবে না। তাই নিজেকে এক জায়গায় আটকে রাখবেন না। আপনার সুযোগের জন্য চারপাশে দেখুন। সফল হওয়ার জন্য  আপনাকে  অন্যদের প্রতি উপযুক্ত সম্মান স্থার তৈরী করতে হবে। এবঙ আপনাকে আরও বৈষম্যমূলক হতে হবে।

১৩. খাদ্যদ্রব্য ভক্ষণের প্রতি আসক্ত হবেন না

এটা সত্য যে, সুস্বাস্থের জন্য ভালো ও পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। তবে আপনি যদি কোনো খাদ্যের প্রতি অধিক আসক্ত হয়ে পড়েন তাহলে তা আপনার নিকট নেশাদ্রব্যে পরিণত হবে। আর এটা আপনার জীবনের জন্য বড় ধরনের হুমকি স্বরূপ হবে।

১৪. বর্তমানকে বেশি প্রাধান্য দিন

অতীতকে নিয়ে আপনি শতচেষ্টা করেও কোনো পরিবর্তন করতে পারবেন না আর বর্তমানই সময়ের পরিক্রমায় অতীতে পরিণত হবে আবার ভবিষৎও বর্তমানে রুপান্তরিত হবে। তাই বর্তমানকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যান, সফলতা আপনা-আপনি চলে আসবে।

১৫.প্রথাগত ধারণার অন্ধভক্ত হবেন না

প্রথাগত ধ্যান-ধারণা ও কর্মকে সম্মান করুন এবং নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা দিয়ে এগুলো যাচাই-বাছাই করুন। সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে সবকিছুই বদলাতে থাকে, তাই অন্ধভাবে ঐতিহ্যগত বিষয় গুলো অনুসরণ করে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে যাবেন না। এতে করে  ব্যর্থ হতে পারেন।

১৬. বিনা প্রয়োজনে অস্ত্র বা হাতিয়ার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

যেখানে সেখানে আপনার অস্ত্র ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন। এটা আপনার জীবনের জন্য ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসতে পারে কারন সব পরিস্থিতিই অস্ত্র ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়।

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুনঃ Social Communication disorder and rules for using Social Media

১৭. মৃত্যুকে ভয় পাবেন না

আমরা জানি যে,  একদিন আমাদের সকলকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। তাই এটা নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। বরং যদি মৃত্যু চিন্তা মাথা ঘুরপাক খায় তবে আপনি কোনো কাজে মনযোগ দিতে ও সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারবেন না। তাই মৃত্যু ভয় েথকে দূরে থাকুন।

১৮.আশে পাশের মুনষের অনুভূতি ও কাজের প্রতি অধিক সচেতন হন

আপনি যা করেন এবং যা বলেন তার জন্য আপনি দায়ী। সুতরাং আপনার কথায় এবং কাজে মনোযোগ দিন। অন্যথায়, আপনার জীবন বিপথগামী হতে পারে।

১৯. সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন

আপনার সৃষ্টিকর্তা আপনাকে কি দিয়েছে! আপনার বিপদে সাহায্য করেছে কি! আপনি সুখি আছেন কি! এটি সম্পর্কে চিন্তা করার পরিবর্তে, সর্বদা আপনার স্রষ্টার প্রতি আপনার ভালবাসা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।

২০. জীবনব্যাপী জ্ঞান অর্জন করবেন

আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করুন। আর এই প্রথা চলবে মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত।

২১.লক্ষ্য থেকে পিছপা হবেন না

আপনার জীবনের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, এবং সেগুলি অর্জন করতে আপনি যতই বাধার সম্মুখীন হোন না কেন!  সবকিছু মোকাবেলা করে সামনে যেতে চেষ্টা করতে থাকবেন কখনও পিছু হটবেন না। শফলতা আপনার আসবেই।

আমরা যখন বিশ্বজুড়ে চলাফেরা করি, তখন আমাদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পরতে হয় এবং  জীবনকে ভিন্ন উপয়ে চালিয়ে নিতে হয়। কখনও কখনও আমরা খুশি হই ঠিকি, আবার দেখা যায় কখনও কখনও বিভিন্ন ঘটনার সমক্ষিন হতে হয়, আমরা হতাশা, দুঃখিত, উদ্বেগ এবং যন্ত্রণায় অভিভূত হই এসব পরিস্থিতিতে আমাদেরও প্রয়োজন হয় এমন কোনো দিকনির্দেশনা যা অনুসরণ করে আমরা আমাদের জীবনকে সাফল্যমন্ডিত ও আনন্দময় করে উপস্থাপন করতে পারি।

আমাদের আরও পোস্ট পড়ুনঃ জাল দলিল চেনার উপায়

Leave a Comment