ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার

ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার– একটি নিখুঁত ভিডিও তৈরিতে করার পিছনে অনেক গুলি কারণ রয়েছে। যেমন ধরুন আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন ধরনের ভিডিও প্ল্যাটফর্মে ভিডিও তৈরী করে আয় করেন এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইউটিউব, ফেশবুকসহ আরও অনেক ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ।

এই ভিডিও প্ল্যাটফর্ম গুলোতে ভিডিও আপলোড করার জন্য আমাদের একটি রুচিশিল, মান সম্মত ভিডিও প্রয়োজন হয়। আর এই ভিডিও তৈরি করার জন্য একটি ভালো সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়। তাই আজ আমরা কয়েকটি জনপ্রিয় ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করব।

ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার
ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার

ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার

এটা ঠিক যে, ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার নিয়ে আমাদের অনেক চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। কোনটি ভালো এবং কোনটি দিয়ে সহজে ভিডিও তৈরী এবং ইডিট করা যায় ইত্যাদি। আশা করি আজকে পোস্ট থেকে ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার গুলো সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ধারনা পাওয়া যাবে। তাহলে চলুন শুরু করি।

আপনি আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে ভিডিও তৈরী করতে পারেন। আমরা আজ মোবাইল এবং কম্পিউটার দুই বিষয়েই আলোচনা করব।

শুরুতে জেনে নেই মোবাইল দিয়ে ভিডিও তৈরী করার পদ্ধিতি –

১। মোবাইলে তোলা ছবি  (ফটো) দিয়ে ভিডিও তৈরী। ২। মোবাইল ক্যামেরায় রেকর্ড করা ভিডিও থেকে মানসম্মত ভিডিও তৈরী।

মোবাইলের ফটো দিয়ে ভিডিও তৈরী

গুগল প্লে স্টোরে ফটো দিয়ে ভিডিও তৈরির জন্য প্রচুর অ্যাপ রয়েছে।

এই ভিডিও তৈরির অ্যাপ ডাউনলোড করার পর আপনাকে এখানে ভিডিও এডিটরের মতো করেই কাজ করতে হবে। তার মানে ভিডিও তৈরির জন্য আপনার একটি অডিও ফাইল, আপনার পছন্দের ছবি এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল লাগবে।

এই ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার গুলোর মাধ্যমে আপনি সবকিছু নিজের মত করে করে সাজিয়ে নিতে পারবেন। চাইলে বিভিন্ন ইফেক্ট ব্যবহারের মাধ্যমে আরও আর্কশনীয় করতে পারবেন। এবং আপনার নিজের ছবি দিয়ে একটি দুর্দান্ত ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।

এই অ্যাপস গুলো ব্যবহার করা খুবই সহজ এবং যে কেউ সহজেই অ্যাপের ব্যবহার বুঝতে পারবেন।

অনেকেই আছেন যারা মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন পুরনো দিনের কথা বা স্মৃতি চিরদিন মনে রাখার জন্য। কিন্তু ছবি তো অনেক ফাইল হয় তাই সেগুলো ম্যামোরি কার্ডে রাখা অনেকটা ঝামেলার হয়ে দারায়।

আপনি চাইলে সেগুলোকে ভিডিও বানিয়ে রাখতে পারেন এতে একটি ফাইলে সব গুলো ফটো রাখা যায এবং সেগুলো কয়েক বছর পর যদি ভিডিও স্লাইডশো এবং গানের মাধ্যমে দেখা যায় তাহলে ভাবুন কতটা মজার হবে।

তাহলে চলুন এক এক করে জনপ্রিয় ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার বা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার গুলোর সাথে পরিচিত হই।

ফটো দিয়ে ভিডিও বানানোর অ্যাপস

Kine-MasterKine Master:

এই ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যারটি খুব সুন্দর ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এবং এর সাথে পাওয়ারফুল ফিচার দেওয়া হয়েছে। তাই সবাই এই ভিডিও অ্যাপলিকেশনটি ব্যবহার করে। এর জনপ্রিয়তা আকাশ চুম্বি।

এটাতে আপনি খুব সহজে ড্রাক ডাউন করর মাধ্যমে বিভিন্ন মিডিয়াতে ফাইল ইমপোর্ট করতে পারবেন। এর জনপ্রিয়তা মূল কারন হলো এই অ্যাপ দ্বারা প্রফেশনাল স্টাইলে ভিডিও এডিট করা যায় খুব সহজেই। এখানে রয়েছে অনেক রকমের ট্রানজিশন ইফেক্ট।

এটাতে অনেক গুলো ভিডিওর মাঝে ও একাধিক ট্রানজিশন অ্যাড করা যায়। সেই সাথে অ্যাপলিকেশনে রয়েছে সাবটাইটেল যুক্ত করার সুবিধা। কম্পিউটার সফটওয়্যার এর মত এখানে লেয়ারের পর লেয়ার যুক্ত করে টেক্সট, গ্রাফিক্স, ফটো এমনকি নিজের হ্যান্ড রাইটিং পর্যন্ত এড করা সম্ভব।

এছাড়া ভিডিওতে কালার মনের মত করে ভিডিও অনুযায়ী করা যায়।, ব্রাইটনেস বা আলো কমানো বাড়ানো বাড়ানো যায়। এমনকি ভিডিও স্পিড টিউটিং বা বাড়ানো কমানো সম্ভব এখানে। ডাউনলোড করতে গুগল প্লে স্টোর গিয়ে Kine Master লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।

Pawer DirectorPawer Director

এই অ্যাপটিতে অনেক ভিন্ন ভিন্ন এডিটিং অপশন আছে যা অন্য কোন ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার নেই। এই অ্যাপের সাহায্যে আপনি ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করতে পারবেন।

ভিডিও ক্লিপ যোগ করতে পারেন, স্লো-মোশনে এডিট করতে পারেন, বিভিন্ন ধরনের পেশাদার টুলস, মনকারা বিভিন্ন ভিডিও ইফেক্ট, ও ফটো সহ ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।

এছাড়াও আরও অনেক কাজ করতে পারেন যা ব্যবহার করত করতে শিখে
যাবেন। এই অ্যাপটির মজার বিষয় হল এটি সবুজ ব্যাকগ্রাইন্ট রিমুভ করে ভিডিও তৈরি করতে ব্যবহার করা যায়।

ভিডিওটি এডিট করার পর আপনি সেই ভিডিও টি আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে বা ম্যামোরীতে সেভ করতে পারবেন। এটি অন্যতম সেরা ভিডিও এডিটিং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ।

এই অ্যাপটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। এটি একটি খুব শক্তিশালী অ্যাপ্লিকেশন এবং এটিই বেশির ভাগ ইউটিউবার ব্যবহার করে থাকে। যেকোনো ভিডিওতে মিউজিক ইফেক্ট যোগ করা, টাইটেল যোগ করা, ভিডিও থিম নির্বাচন করা, কাটিং এবং ট্রিমিংয়ের মতো অনেক কাজ রয়েছে এই অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যারটিতে।

এটি দিয়ে বিপরীত দিতে প্লে করার ভিডিও তৈরি করতে, ফটো যুক্ত করতে, লেখা যোগ করতে এবং ধীর গতির ভিডিও তৈরি করতেও ব্যবহার করা যায়।

এটির আরো অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে৷ যেমন ভিডিও এডিট করা শেষে সরাসরি যে কোন সোশ্যাল মিডিয়া বা ওয়েব সাইটে আপলোড করা যায়। ফ্রি ভার্ষন ব্যবহার করলে ভিডিওতে ওয়াটার মার্ক দেখা যাবে ভিডিওর একদম শেষে।

প্রিমিয়ামভার্সন এর ক্ষেত্রে কোন ওয়াটারমার্ক ভিডিওতে থাকবে না। কাজ শেষে ভিডিওটি আপনি আপনার মোবাইলের গ্যালারিতে সেভ করে রাখতে পারবেন।

ছবি দিয়ে কিভাবে ভিডিও তৈরি করব

FilmoraGo – Free Video EditorFilmoraGo – Free Video Editor

FilmoraGo একটি অনেক শক্তিশালী ভিডিও বানানোর এপ্লিকেশন যাকে ব্যবহার করেন লক্ষ লক্ষ professional YouTuber। এটিতে আপনি সকল ধরনের সাধারণ থেকে advanced functions যেমন, ভিডিওর সাথে music ও effects যোগ করতে পারবেন।

এছাড়াও title যোগ নিতে, ভিডিওর জন্য theme বেঁচে নিতে, video cutting এবং trimming এর মতো সব ধরণের editing options থেকে আপনার চাগহদা মত কাজ করে নিতে পারবেন।

FilmoraGo এপ্লিকেশনটি ফ্রীতেই ব্যবহার করা যায়। এবং, বেশির ভাগ ফিচারস ফ্রি ভার্শনে (free version) এ পেয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, এই app এ ভিডিও বানিয়ে আপনি অনেক সহজে নিজের মোবাইলের গ্যালারিতে ভিডিও সেভ করতে পারবেন।

FilmoraGo এপ্লিকেশনটির কিছু special features –

এডিট করা অবস্তাতেই কম্পিউটারে মত ভিডিও প্লে যায় ।
এখানে অনেক গুলো templates এবং video effects রয়েছে যা ফ্রিতে ব্যবহার করা যায়।
অনেক ধরণের professional editing tools আপনারা পাবেন।
বেশিরভাগ ফ্রীতেই পেয়েযাবেন।

Adobe Premiere Rush

Adobe Premiere Rush দাঁড়া ভিডিও খুব দ্রুত এডিটিং করা যায় এবং খুব মজা পাওয়া যায়। থেকে মজার ব্যাপার হলো এর একটি বেস্ট ফিচার হচ্ছে এর অটোমেটিক ভিডিও ক্রিয়েশন ক্যাপাবিলিটি।

এই অ্যাপ ব্যবহার করার সময় কোন অ্যাড দেখানো হয় না। ভিডিও কাট করা, ট্রিম করা, ট্রানজেকশন করা থেকে শুরু করে অডিও,টেক্সট, ফিল্টার, ইডিট, ইফেক্ট ইত্যাদি যোগ করা যায়।

এই ভিডিও এডিটর দিয়ে অসাধারণ একটি অনেক গুলো ছোট ছোট ভিডিও বা ফটো খুব সহজে জোরা লাগাতে পারবেন। এটাতে রয়েছে কিছু শক্তিশালী Tools যা আপনাকে এমন ছোট ছোট ভিডিও বা ফটো গুলি দ্রুত জোরা লাগানো যায়।

এটা দিয়ে ভিডিও তৈরী করলে দেখতে অনেকটা পেশাদার ভিডিও মনে হবে ঠিক যেমনটি আপনি চান। সরাসরি অ্যাপ থেকে আপনার পছন্দের সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করা যায়। আর এটির ফ্রি ভার্ষন দিয়ে অনেক ফিসার বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়।

এটি প্রিমিয়াম ভার্ষনে শত শত সাউন্ডট্র্যাক, সাউন্ড ইফেক্ট, লুপ, অ্যানিমেটেড টাইটেল, ওভারলে এবং গ্রাফিক্স অ্যাক্সেস সহ বিভিন্ন ফিসার রয়েছে।

Video Editor & Video Maker - InShotVideo Editor & Video Maker – InShot

সাধারণত ছবি এডিট করার জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার করা হলেও ভিডিও এডিটিং এর জন্য খুব উপকারী এই অ্যাপ।এটি ব্যবহার করা খুব সোজা।ভয়েস ওভার, মিউজিক ন্যারেশন, ইমোজি, ওভারলাইস সহ বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে এখানে।

Video Editor & Video Maker InShot এই সফটওয়্যারটিতে পেশাদার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি অল ইন ওয়ান ভিডিও এডিটর এবং ভিডিও মেকার বলা যেতে পারে। মিউজিক, ট্রানজিশন ইফেক্টস, টেক্সট, ইমোজি এবং ফিল্টার, ব্লার ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ইত্যাদি যোগ করা এবং রিমুভ করা যায়।

পেশাদার ভিডিও তৈরীর বৈশিষ্ট্য থাকায়, আপনার দৈনন্দিন জীবনের মূল্যবান মুহূর্ত গুলি রেকর্ড করে তাতে সঙ্গীত লগিয়ে শীর্ষ মুভি কোয়ালিটির এইচডি ভিডিও তৈরী করতে পারবেন।

আপনি চাইলে এটি ব্যবহার করে ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটোক, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদির জন্য ভিডিও তৈরী করে শেয়ার করতে পারনে।

পিকচার দিয়ে গান বানানো

Video Editor & Maker Video ShowVideo Editor & Maker Video Show

এই অ্যাপটি সেরা ভিডিও এডিটিং অ্যাপ। কেন জানেন? এটি একটি অত্যন্ত প্রতিভাবান অ্যাপ। এই অ্যাপটি এখন পর্যন্ত অনেক পুরস্কার পেয়েছে। অ্যাপটি দিয়ে খুব সহজেই ভিডিও এডিটিং করা যায়।

এটি ব্যবহার করা অনেক সহজ হওয়ায় সবাই এটি ব্যবহার করতে পারে। এই অ্যাপে বিভিন্ন ধরণের থিম রয়েছে। কম্প্রেস করে ভিডিও সাইজ কমানো বা বাড়ানো যায়। এই অ্যাপের মাধ্যমে টেক্সট, ইফেক্ট, সাউন্ড যোগ করা যায়, এবং অডিও ডাবিং করা যায়।

ছাড়াও আরও কিছু ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার রয়েছে সেগুলো হলো:

Lapse It • Time Lapse CameraLapse It • Time Lapse Camera

টাইম ল্যাপস ভিডিও বানাতে এই অ্যাপটি ব্যবহার অনেক সুবিধা রয়েছে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে খুব সহজেই টাইম ল্যাপস ভিডিও বানানো সম্ভব এবং এক ক্লিকেই যে কোন ওয়েবসাইটে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করাটাও সম্ভব।

এছাড়া বিভিন্ন রকমের ফিল্টার রয়েছে। এই অ্যাপটি প্লে স্টোরে ফ্রিতেই ডাউনলোড করা যায়। তবে প্র ভার্শন এর জন্য 0.99 ডলার প্রয়োজন। এটি দ্বারা আরো অনেক রকমের ফিল্টার ইফেক্ট ও হাই রেজুলেশনের ভিডিও তৈরি করা যায়।

Viva Video – Video Editor & Maker

এই অ্যাপ এ অনেক সুন্দর সুন্দর মনকারা এডিটিং ফিচার রয়েছে। যে কোন এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে নতুন পুরাতন সব ফোনে এটি ব্যবহার করা যায়। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্র লেভেলের ভিডিও করা যায়। অনেক বেশি স্টিকার ও ফিল্টার রয়েছে এটিতে। এর মধ্যে রয়েছে এনিমেটেড ক্লিপ ও সাবটাইটেল যুক্ত করার অনেক রকম ডিজাইনের টেক্স। এর মধ্যে রয়েছে স্লো মোশন ভিডিও মেকার এবং স্লাইড শো মেকার।অ্যান্ড্রয়েড মধ্যে Viva Video – Video Editor & Maker সেরা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার হলো বলা যায়।

Vizmato – Video Editor & Slideshow maker!

খুব তাড়াতাড়ি ভিডিও বানানোর জন্য Vizmato বেশ কার্যকরী অ্যাপ। এই অ্যাপটির মাধ্যমে এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং ও এডিটিং করা যায়। নানানা ইফেক্ট ফিল্টার তো রয়েছেই। Vizmato এর কিছু কিছু ফিল্টার ইনস্টা ইফেক্টের জন্য অনেক উত্তম। যারা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতে অনেক পছন্দ করে তাদের জন্য Vizmato অ্যাপটি খুবই ভালো। প্র ভার্সনের মাসে ০.৯৯ডলার দিতে হয়।

আপনারা যদি ইউটিউব বা ফেশবুকের জন্য মোবাইলেই ভিডিও এডিট করতে চান এবং কম্পিউটারের মতো প্রফেশনাল কোয়ালিটির ভিডিও তৈরি করতে চান, তাহলে ওপরে দেয়া এডিটিং এপস গুলো ব্যবহার করতে পারেন। এই এপস গুলি ফ্রি ভার্ষন ব্যবহার করতে পারবেন ফ্রি ভার্ষন অনেক ফিসার পেয়ে যাবেন। এবং অন্যান এপলিকেশনের তুলোনায় এগুলি অনেক বেশি শক্তিশালী ভিডিও মেকার এপস।

মোট কথা ভালো এবং জন প্রিয় মোবাইল ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার বা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার তো দেখলা এবার দেখুন কম্পিওটার ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার জনপ্রিয়তার শির্ষে কি কি রয়েছে ? আর কিভাবে ব্যবহার করবেন।

কমিউটার ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার

Adobe Premiere Pro CC

এটি একটি অসাধারণ ভিডিও এডিটিং করার সফটওয়্যার। অ্যাডোব ক্রিয়েটিভ ক্লাউড এটিকে ২০০৩ সালে অ্যাডোব সিস্টেমস মারকেটে পাবলিশ করে এই সফটওয়্যারটি।

বর্তমানে এটি অন্যতম একটি জনপ্রিয় ভিডিও এডিটর সফটওয়্যার। এটি ব্যবহার করে সবাই প্রফেশনার ভিডিও তৈরী করে। স্ট্যাকেবল অডিও এবং ভিডিও ফিল্টারের বিশাল বড় ভাণ্ডার রয়েছে এটির। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনি উন্নত থেকে আরও উন্নত মানের ভিডিও এইচডি কোলালিটিতে এডিটিং করতে পারবেন।

আপনি জেনে অবাক হবেন যে, সিএনএন বা বিবিসি’র মতো নিউজ প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের প্রতিদিনের নিউসরে কাজে অ্যাডোব প্রিমিয়ার প্রো ব্যবহার করে থাকেন।

অসংখ্য ফিচার প্রিমিয়ার প্রোতে রয়েছে যেমন – ট্র্যাকিং ইফেক্ট, ভিডিও ট্রানজিশন, ভিডিও ইফেক্ট,এডজাস্টম্যান্ট লেয়ারস, অডিও ইফেক্ট, ক্লিপ স্পীড, রিয়েল টাইম রেন্ডার সহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন এটাতে ।

এক কথায় বলা যায় প্রোফেশনাল ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারে যে ধরনের টুলস থাকা দরকার তার সব কিছুন পেয়ে যাচ্ছেই এটিতে। সফটওয়্যারটি ৩৬০ ডিগ্রী ভিআর কন্টেন্ট, ৪ কে এবং এইচডিআর ভিডিও সাপোর্ট করার কারনে এটির মান আরও উন্নত হয়েছে।

যেহেতু অ্যাডোবের কোনো সফটওয়্যারই ফ্রি নয়, তাই এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে মাসিক ২০.৯৯$ ডলার পে করতে হবে। তবে, হ্যা আপনি চাইলে ৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল ভাসর্নটি অবশ্যই ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

তবে আপনি চাইলে ক্রাক ফাইল দিয়েও ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু আমি ক্রাক ফাইল ব্যবহার না করাই ভালো কারন এটি সিকিউরিটি জনিত সমস্যায় পরতে পারেন।

Camtasia Studio

নতুনদের জন্য এটি একটি অসাধারন ভিডিও এডিটর। ধরুন আপনি যদি টিউটোরিয়াল টাইপের ভিডিও তৈরী করতে চান, তবে Camtasia Studio ব্যবহারের কোন জুরি নেই । Camtasia Studio এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ভিডিও এডিটর।

সফটওয়্যারটির ক্যামটাসিয়া রেকর্ডার ও ক্যামটাসিয়া ভিডিও এডিটর নামে ২টি ভাগ রয়েছে। আপনি ইচ্ছা মত ব্যবহার করতে পারবেন। রেকর্ডার দিয়ে ভিডিও ক্যাপচার করার পর আবার এটির এডিটর দিয়ে ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন।

এই সফটওয়্যারটি যারা টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করেন তাদের প্রধান হাতিয়ার বলা যেতে পারে। সফটওয়্যারটির ইউজার ইন্টারফেস সহজ ও সাবলীল হওয়ায় যে কেউ এটি সহজে বুঝতে এবং ব্যবহার করতে পারেন।

এই সফটওয়্যারটিতে প্রয়োজনীয় সকল ফিচারস দিয়েই রেডি করা হয়েছে। এই পেইড সফটওয়্যারটি বিশ্বব্যাপি ২৪ মিলিয়নের বেশি ভিডিও ক্রিয়েটর ব্যবহার করছেন।

এটিও যেগহতু পেইড ভার্ষন সেহেতু আপনি চাইলেই ক্রাক ভার্ষন ব্যববহার করতে পারেন। গুললে Camtasia Studio Crack লিখে সার্চ করুন দেখুন আপনার সামনে অনেক গুলো হাজির হয়ে যাবে। তবে আগেই কতা বললাম ভাইরাজ জনিত সমস্যায় পরা সম্ভবনা থাকে ক্রাক ব্যবহার করলে। বলে রাখারা ভালো আমিও মাঝে মাঝে এটির ক্রাক ব্যবহার করি।

Cyber Link Power Director

এটি খুবই শক্তিশালী একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটির সিম্পল ইউজার ইন্টারফেস থাকায় নতুন বা প্রোফেশনাল সবার জন্য অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। মজার বিষয় হলো খুব সহজেই এটির মাধ্যমে প্রোফেশনাল মানের ভিডিও তৈরি করো সম্ভব।

CyberLink PowerDirector সফটওয়্যারটিতে মাল্টি-ক্যাম এডিটিং কালার এডজাস্টমেন্ট, ভিডিও কোলাজ, কাস্টমাইজেবল ডিজাইন টুলস, , মোশন ট্র্যাকিং, ক্রোমা কী, ভিডিও প্রী-কাট সহ অসংখ্য ফিচারে ভরপুর যা আপনার কাজকে অনেকাংশে সহজ করে দিবে।

সফটওয়্যারটির সাহায্যে ৩৬০ ডিগ্রী ভিডিও, ৪কে/২কে ভিডিও খুব সহজেই এডিট করা যাবে। এটি একটি পেইড সফটওয়্যার। তাই এটি ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে ৭৯.৯৯$ ডলার দিয়ে পারচেজ করতে হবে।

Adobe Premiere Elements

অ্যাডোবের অন্য আরেকটি জনপ্রিয় ভিডিও এডিটর হলো Adobe Premiere Elements। অ্যাডোব মূলত নতুনদের কথা চিন্ত করেই এটি তৈরি করেছে।

এই সফটওয়্যারটির সিম্পল ইউজার ইন্টারফেস ও স্মুথ পারফর্মেন্স নিস্বন্ধহে যে কাউকে মুগ্ধ করতে পারে। এই সফটওয়্যারটিকে এমন ভাবে ডিজাইন করেছে যে টেকনিক্যাল জ্ঞান না থাকলেও যে কেউ খুব সহজেই ভিডিও তৈরি করতে পারে।

এটি অন্যান্য ভিডিও এডিটরের মতো আনলিমিটেড ভিডিও এবং অডিও ট্রাক হ্যান্ডেল করতে পারে। সফটওয়্যারটিতে রয়েছে চমৎকার অধুনিক সব ফিচার যে গুলোর সাহায্যে খুব সহজেই প্রোফেশনাল মানের ভিডিও তৈরি করতে পারে যে কেউ।

এতে স্মার্ট ভিডিও ট্রিমিং, কুইক মুভিস, অটোমেটিক এডজাস্টমেন্ট, অটোমেটিক ভিডিও এন্ড স্লাইড শো ক্রিয়েশন, এসেট অরগানাইজেশন, মিউজিক রিমিক্স সহ অসংখ্য ফিচার রয়েছে।

সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে চাইলে এটি ৯৯.৯৯$ ডলার দিয়ে পারচেজ করতে হবে। এরপরই এটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

তবে আপনি চাই ক্রাক প্রোটেবল  ভার্ষন ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারেন।

Wondershare Filmora

ওয়ান্ডারশেয়ারের তৈরি Filmora বর্তমান সময়ের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ভিডিও এডিটর। পার্সোনাল কম্পিউটারে ব্যবহার করার জন্য এটি খুবই উপযোগী একটি ভিডিও এডিটর।

ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য সমস্ত ফিচারই এতে প্যাক করা হয়েছে। মাল্টি-ক্যাম এডিটিং, ৪কে ভিডিও সাপোর্ট, অডিও মিক্সার, টিল্ট স্ক্রীন,স্প্লিট স্ক্রীন অডিও রেকর্ডার মতো ফিচারগুলো এতে রয়েছে।

সফটওয়্যারটি ব্যবহারের জন্য আপনাকে কোন প্রোফেশনাল ভিডিও এডিটিং কোর্স করতে হবে না। কেননা এটি ব্যবহার করা অনেক সহজ।

সফটওয়্যারটি পেইড তাই এটি ব্যবহার করতে চাইলে ৫৯.৯৯$ ডলার দিয়ে পারচেজ করে ব্যবহার করতে হবে। যা এর পারর্ফমেন্সের তুলনায় কিছই না।
আপনি চাইলে এটিও ক্রাক ভার্ষন ব্যবহার করতে পারে আমি নিজেউ এটির ক্রাক ব্যবহার করি মাঝে মাঝে।

শেষ কথা

উপরের যে ভিডিও এডিটরগুলোর কথা উল্লেখ করেছি তার সবগুলোই পেইড সফটওয়্যার। অথার্ৎ এগুলো ব্যবহার করতে হলে আপনাকে টাকা দিয়েই ব্যবহার করতে হবে। তবে এখানে আরেকটি উপায়ই আছে অবশ্য।

আপনি এই পেইড সফটওয়্যারগুলো ক্র্যাক, প্যাচ, কীজেন, সিরিয়াল ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন। এভাবে ব্যবহার করলে আপনাকে এক টাকাও দিতে হবে না। কিন্তু সত্যিকার অর্থে এটা সম্পূর্ণই অবৈধ।

আমি আপনাকে কখনোই ক্র্যাক সফটওয়্যার ব্যবহার করতে বলবো না। এখন আপনি যদি এভাবে ব্যবহার করতে চান তাহলে নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করতে পারেন। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আশা করি আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে।

1 thought on “ভিডিও তৈরি করার সফটওয়্যার”

Leave a Comment