কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

আলোচনার বিষয় সমূহঃ

কিডনি রোগ

আজকের আর্টিকেলে আমরা কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবব, মনে রাখবেন অসুস্থতা কেউ চায় না। আমরা যাতে সবাই সঠিক তথ্য জেনে সুস্থতার সাথে জীবন যাপন করতে পারি সেই আশা নিয়ে আমাদের ওয়েবসাইট সাহাজ্যবিডি ডট কম এ সব সময় সঠিক এবং বিভিন্ন ডাক্টার এর পরামর্শ সবার কাছে পৌন্ছে দেওয়ার চেষ্টা করি, যাই হোক আর কথা না বাড়িয়ে আজকের পোস্টের মূল আলোচনায় যাই।

কিডনি রোগের ১০ লক্ষণ জানেন কি
কিডনি রোগের ১০ লক্ষণ জানেন কি

কিডনি রোগের লক্ষণ সমূহ কি কি –  কিডনি রোগের ১০ লক্ষণ জানেন কি

কিডনি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনি রোগ খুব নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। লক্ষণগুলি সাধারণত নিজেদেরকে ভালভাবে প্রকাশ করে না যদি না তারা খুব জটিল হয়। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জানা জরুরি। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ ডাইজেস্ট কিডনি রোগের লক্ষণ নিয়ে রিপোর্ট করেছে।

কিডনি রোগের লক্ষণ – প্রস্রাবের পরিবর্তন

কিডনি রোগের একটি প্রধান লক্ষণ হল প্রস্রাবের পরিবর্তন। আপনার কিডনির সমস্যা থাকলে আপনি কমবেশি প্রস্রাব করেন। বিশেষ করে রাতে এই সমস্যা বাড়ে। প্রস্রাবের রং গাঢ়। অনেক সময় প্রস্রাবের গতি অনুভব করেন কিন্তু প্রস্রাব করেন না।

কিডনি রোগের লক্ষণ – প্রস্রাবের সময় ব্যথা

প্রস্রাবের সময় ব্যথা কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ। প্রধানত প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া- এগুলো মূত্রনালীর সংক্রমণের লক্ষণ। এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়লে জ্বর এবং পিঠে ব্যথা হয়।

কিডনি রোগের লক্ষণ – প্রস্রাবের সাথে রক্তপাত

প্রস্রাবে রক্ত ​​থাকলে তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ।

কিডনি রোগের লক্ষণ – শরীর ফুলে যাওয়া

কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়। এই অতিরিক্ত পানি থেকে বের হতে কিডনি রোগে সমস্যা হয়। অতিরিক্ত পানি শরীরে ফোলাভাব সৃষ্টি করে।

কিডনি রোগের লক্ষণ – মনোযোগ দিতে অসুবিধা হচ্ছে

লোহিত রক্তকণিকা কমে গেলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। এতে কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়।

কিডনি রোগের লক্ষণ – সবসময় ঠান্ডা অনুভব করা

আপনার যদি কিডনি রোগ থাকে তবে গরম আবহাওয়াতেও আপনি ঠান্ডা অনুভব করবেন। আর কিডনিতে ইনফেকশন হলে জ্বর হতে পারে।

কিডনি রোগের লক্ষণ – চামড়া ফুসকুড়ি

কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়লে রক্তে বর্জ্য পদার্থ বেড়ে যায়। এটি ত্বকে চুলকানি এবং ফুসকুড়ি হতে পারে।

কিডনি রোগের লক্ষণ – অসুস্থ বোধ করা বা বমি বমি ভাব

রক্তে বর্জ্য পদার্থ বৃদ্ধির কারণে কিডনি রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে।

কিডনি রোগের লক্ষণ – শ্বাসকষ্ট

কিডনি রোগ হল ফুসফুসে তরল জমা হওয়া। এছাড়া কিডনি রোগেও শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। এগুলোর কারণে শ্বাসকষ্ট হয়, তাই অনেকেই ছোট করে শ্বাস নেন।

কিডনি রোগের লক্ষণ – পিঠে ব্যথা

কিছু কিডনির রোগে শরীরে ব্যথা হয়। পিঠের নিচের দিকে ব্যথা হয়। এটিও কিডনি রোগের অন্যতম লক্ষণ।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

 

 

কিডনি রোগের লক্ষণ ও কারণ

ডাঃএম এ সামাদ বলেন গুরুতর কিডনি ব্যর্থতার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, চোখ ও মুখ ফুলে যাওয়া, শরীরে চুলকানি, প্রস্রাব কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি।

কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কিডনি রোগ ব্যাপক এবং মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য’। কিডনি রোগ অনেকটা সমুদ্রে ভাসমান বরফের মতো। এর একটি ছোট অংশ পানির উপরিভাগে দৃশ্যমান। এবং তাদের অধিকাংশই পানির নিচে অদৃশ্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকল হয়ে দেশে প্রতি ঘণ্টায় পাঁচজনের বেশি মানুষ মারা যায়।

কিডনি শরীরের বর্জ্য বের করার জন্য একটি প্রহরী হিসাবে কাজ করে। কিডনি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে, পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে, লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য হরমোন তৈরি করতে এবং অস্থি মজ্জাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

70 থেকে 80 শতাংশ কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আগে কিডনি ফেইলিউরের লক্ষণগুলো সাধারণত বোঝা যায় না। কিছু লক্ষণ কিডনি রোগের লক্ষণ বহন করে। যেমন প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাব লাল হওয়া, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ, কোমর ও তলপেটের দুই পাশে প্রচণ্ড ব্যথা, শরীর ও মুখ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।

তিন মাস চিকিৎসার পরও কিডনি রোগ ভালো না হলে তা ক্রনিক কিডনি রোগ হিসেবে ধরা হয়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং নেফ্রাইটিস (কিডনির বিভিন্ন সমস্যা)—এই তিনটি রোগ ৮০% মানুষের কিডনির ক্ষতি করে। এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে একটু সচেতন হলেই ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে কিডনি ফেইলিউর প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশ্ব কিডনি দিবসে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল পর্যায় থেকেই শিশুদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে শেখানো হলে কিডনি রোগ ছাড়া অন্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ওজন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। খাদ্য পরিমিত এবং সুষম হওয়া উচিত। দিনে পরিমিত পরিমাণে পানি পান করুন।

ধূমপান ও মাদক পরিহার করা জরুরী। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়। পরিষ্কার হতে হবে। প্রস্রাব এবং রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা নিয়মিত বিরতিতে করা উচিত।

কিডনি রোগের লক্ষণ কি কি?  তার প্রতিকার

ডাঃ এম এ রহমান বলেন কিডনি রোগ ছোট শিশুদেরও প্রভাবিত করতে পারে। এই রোগ প্রতিরোধে প্রচুর পানি পান করার প্রয়োজন নেই। তবে পিপাসা লাগলে পরিমিত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রস্রাব চাপা দেওয়া উচিত নয়। যেকোনো ওষুধ এবং রাস্তার খাবার কিডনির ওপর প্রভাব ফেলবে। প্রচুর পরিমাণে ওষুধ এবং ব্যথানাশক সেবন এড়িয়ে চলুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে না।

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ইনফেকশন হলে বিষয়টি সতর্কতার সাথে নিতে হবে। প্রস্রাবের মাধ্যমে কিডনি রোগ নির্ণয় করা যায়।

কিডনি রোগের সাথে হৃদরোগের নৈকট্য গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।

উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, তাহলে কিডনি ভালো থাকবে। বছরে অন্তত একবার কিডনি পরীক্ষা করা উচিত। শরীর ফুলে গেলে বুঝবেন এটা কিডনি বা হার্টের সমস্যা। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। বিআরবি হাসপাতালে এমন সুবিধা রয়েছে।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

বিশেষজ্ঞদের মতে কিডনি রোগ দুই প্রকার। একটি হঠাৎ হয় এবং অন্যটি দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়, যা বোঝা যায় না। এ দুটোই প্রতিরোধ করা যায়। জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা আছে এমন ব্যক্তির কিডনির সমস্যা হবে না।

জনস্বাস্থ্য মানে পানীয় জল, মশামুক্ত পরিবেশে বসবাস, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ইত্যাদি এসব অনিয়মের কারণে কিডনির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হচ্ছে।

শুধু জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া ঠিক নয়। এতে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। সুপ্ত কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত।

এ জন্য রোগীর পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও যথাযথ চিকিৎসা দিতে নজর দিতে হবে। জ্বরের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন কিনা তা বোঝা জরুরি। এটি বাংলাদেশে কিডনি রোগের তৃতীয় বা চতুর্থ কারণ।

কিডনি রোগের আরেকটি কারণ ব্যথানাশক ওষুধ সেবন। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যথানাশক ওষুধ ৮০% কিডনির ক্ষতি করে।

যদি আপনার লিভার বা আলসারের সমস্যা না থাকে তবে প্যারাসিটামল শিশু থেকে বয়স্ক সকলের জন্য একটি অত্যন্ত নিরাপদ ওষুধ।

কিডনি রোগ প্রথম দুই ধাপ পর্যন্ত নিরাময়যোগ্য। তৃতীয় এবং চতুর্থ স্তরের রোগীরা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে ৫ থেকে ১০ বছর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। পঞ্চম স্তরে মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ রোগী রয়েছে। এই জিরো পয়েন্ট দুই শতাংশ রোগীর জন্য সারা দেশে তোলপাড় করছি।

কিডনি পরীক্ষার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবহার করতে হবে। রোগীর মধ্যে কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাতে হবে।

সচেতন হলে এক কোটি প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের রোগী কিডনি রোগের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাবে।

পঞ্চম স্তরের রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞরা কিডনি প্রতিস্থাপন এবং ডায়ালাইসিসে সহায়তা করবেন।

নেফ্রোলজিস্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে। রোগীর সংখ্যার তুলনায় নেফ্রোলজিস্টের সংখ্যা অনেক কম। তার সঠিক চিকিৎসা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এ জন্য অনেকেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন।

এসডিজি ব্যবহার করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ, দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগ এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের লক্ষণ

ডাঃ মুহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ একটি অসংক্রামক রোগ। বাংলাদেশেও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগকে অসংক্রামক রোগের তালিকায় রাখার অনুরোধ করছি। কিডনি রোগ সচেতনতামূলক কর্মসূচি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আদলে তৈরি করা হবে, যা মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বয়স, লিঙ্গ এবং রক্তের ক্রিয়েটিনিন জেনে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ইজিএফআর (কিডনি রোগের মাত্রা পরীক্ষা) নির্ণয় করা সহজ। যদি EGFR 80 এর নিচে নেমে যায়, তাহলে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

আইসিইউতে বেশির ভাগ সময় ২ থেকে ৩টি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের সচেতন হতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমাদের স্কুল স্বাস্থ্য কর্মসূচির দিকে নজর দিতে হবে। স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। একটি ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম ট্যাবলেট কিডনিকে বিকল করে দিতে পারে। ভেষজ ওষুধের কিছু ক্ষতিকর উপাদানও কিডনি রোগের কারণ হতে পারে। তবে বর্তমানে কোনো কারণ ছাড়াই কিডনি রোগ রয়েছে।

আফ্রিকা এবং অন্যান্য দেশের গবেষণায় দেখা গেছে যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিডনি রোগ কীটনাশক এবং বিষাক্ত পদার্থের কারণে হয়। পাতলা ত্বকের জন্য টক্সিন সহজেই শরীরে প্রবেশ করে। বেকিং সোডা এবং হালকা গরম পানি দিয়ে টক্সিন দূর করা যায়।

কিডনিতে পাথর হলে কিডনি রোগের ঝুঁকি ১০ গুণ বেড়ে যায়। নিরাপদ পানি পান করা জরুরি। অতিরিক্ত স্থূলতা কিডনি রোগের জন্য দায়ী। স্থূলতার কারণে কোমর ব্যথা এবং হাঁটু ব্যথা হয়। এতে কিডনির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

কোমর ব্যথা কি কিডনি রোগের লক্ষণ

কোমরের পিছনে হালকা চিনচিলা ব্যথা উপসর্গ নিয়ে অনেক কম বয়সী ভয়ে ছোটেন চিকিৎসকের কাছে। ভয়ে থাকেন ভাবেন আমার কিডনি খারাপ হয়ে গেছে? শুনেছি কিডনির সমস্যার কারনে হয় পিঠে ব্যথা? এমন প্রশ্নের শেষ নেই। হালকা বা কম পিঠে ব্যথার বেশিরভাগ রোগীই মনে করেন তাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, কিডনিতে পাথর বা খারাপ ধরনের ইনফেকশন হলে ব্যথা হয় না। অন্যদিকে, কোমর ব্যথার বিভিন্ন কারণ ও উৎস রয়েছে। বেশিরভাগ পিঠের ব্যথা সাধারণত পেশী, মেরুদন্ড, ডিস্ক, জয়েন্ট এবং স্নায়ুর সাথে সম্পর্কিত। এটি নির্দিষ্ট অংশ কভার করে। মেরুদন্ডের নড়াচড়া, যেমন উঠানো, সামনে ঝুঁকে থাকা, হাঁটা বা দাঁড়ানো, কাজ করা বা দীর্ঘ সময় ধরে শুয়ে থাকা, ব্যথা বাড়ায় বা কমায়।

এ প্রসঙ্গে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, কোনো ব্যথা ছাড়াই কিডনি খারাপ হতে পারে। কারণ, কিডনির সমস্যার লক্ষণ সাধারণত দেরিতে প্রকাশ পায়। তাই যাদের পরিবারে কিডনি রোগ আছে তাদের আরও সচেতন হতে হবে। সাধারণ নিম্ন পিঠে ব্যথা সাধারণত জ্বর সৃষ্টি করে না (টিউমার, টিবি, ইত্যাদি ছাড়া)। দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি সাধারণ সমস্যা নয়। বিশ্রাম এবং ব্যথানাশক ভাল; আপনি থামলে ব্যথা ফিরে আসে।

কিডনি রোগের লক্ষণ বা ব্যথা

১। কিডনির ব্যথা সাধারণত মেরুদণ্ড থেকে একটু দূরে ডান বা বাম দিকে হয়। এটি পিছনের পাঁজরের নীচের অংশে অনুভূত হওয়ার কথা। এই ব্যথা নড়াচড়া করতে পারে এবং কোমরের দুপাশে যেতে পারে। এই ব্যথা বসা, শুয়ে বা অন্য কিছু থেকে আসে না।

২। ব্যথা কিডনির সমস্যার প্রধান লক্ষণ নয়, এটি পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, ক্ষুধা হ্রাস এবং বমি বমি ভাব সৃষ্টি করে।

৩। ইনফেকশন হলে এই ব্যথার সঙ্গে জ্বর হতে পারে।

৪। প্রস্রাব মেঘলা, দুর্গন্ধ বা রক্ত ​​হতে পারে।

৫। প্রস্রাবের পরিমাণ কমবেশি হয়।বা রক্তশূন্যতা হতে পারে।

আরও পডুন- কলার উপকারিতা

কিডনি রোগের লক্ষণ হোমিও ঔষধ

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ, যা ক্রনিক রেনাল ডিজিজ নামেও পরিচিত, একটি কিডনি রোগ যা একজন সক্ষম ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে তার মলত্যাগের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই রোগের কিছু অস্পষ্ট লক্ষণ আছে, যার মধ্যে কিছু হল ক্ষুধামন্দা, অসুস্থ বোধ করা ইত্যাদি।উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিক বা ডায়াবেটিক বা ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে এই রোগ দেখা যায়। এই রোগটি কার্ডিওভাসকুলার, অ্যানিমিয়া এবং পেরিকার্ডাইটিসের মতো অন্যান্য রোগের কারণ বলে মনে করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের আদর্শ চিকিৎসা হল হোমিওপ্যাথি। হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং রোগের সমস্ত কারণ নিরাময় করার চেষ্টা করে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার লক্ষণ সবসময় স্বীকৃত। উপসর্গ দ্বারা এখানে সেরা ঔষধ নির্বাচন করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধের তালিকা নিচে দেওয়া হল।

১। এপিস মেলিফিকা: এই ওষুধটি রোগের তীব্র পর্যায়ে ব্যবহার করা হয় না। এই সময়ের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড ঘাম, মাথাব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা ইত্যাদি। কিডনিতে সামান্য ব্যথা হলে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে এই ওষুধটি ব্যবহার করা হয়। রোগীর প্রস্রাবে অ্যালবুমিন থাকে এবং রক্তে কার্পাসকল থাকে, ত্বক ফুটো হয়ে যায় এবং রোগীর পিপাসা লাগে।

২। আর্সেনিকাম: এই ওষুধটি রোগের সব পর্যায়ে ব্যবহৃত হয় এবং এটি রোগের অন্যতম সেরা প্রতিকার। এটি রোগের পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবহার করা হয় যখন রোগীর ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং তিনি মোমের মতো আচরণ করেন, তৃষ্ণার অত্যধিক অনুভূতি এবং ডায়রিয়া হয়। প্রস্রাবের রং খুব চাপা থাকে এবং এতে প্রচুর অ্যালবুমিন থাকে। রাতে ঘুমানোর সময় রোগীর শ্বাসকষ্ট লক্ষ্য করা যায়। এ সময় অ্যাকোনাইট দেওয়ার ফলে রোগী কিছুটা স্বস্তি পায়।

৩। আরাম মুরিয়াটিকাম: হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ছাগল দ্বারা সৃষ্ট মর্বুরাইটিসের মতো মলত্যাগের রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এটাও ভার্টিগোর কারণ হতে পারে।

৪। বেলাডোনা: কিডনির কটিদেশীয় অঞ্চলে প্রদাহ বা ব্যথা নিরাময়ের জন্য বেলাডোনা একটি আদর্শ নিরাপদ ওষুধ।

৫। ক্যান্থারিস: এই হোমিওপ্যাথিক ওষুধটি নেফ্রাইটিস নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। ডিপথেরিয়া কিডনি রোগে ড্রপসির সাথে ক্যান্থারিস ব্যবহার করা হয়

৬। কনভালারিয়া: হৃদরোগের কারণে নেফ্রাইটিসের জন্য কনভালারিয়া ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধটি প্রয়োগ করা হয় যখন হৃৎপিণ্ড অনিয়মিতভাবে কাজ করে।

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার খুবই কার্যকর।

আরও পডুন- মধু খাওয়ার উপকারিতা

 কিডনি পাথর রোগের লক্ষণ – বাচ্চাদের কিডনি রোগের লক্ষণ

কিডনি রোগ বা অন্য কোনো রোগে তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে কিডনি কার্যকারিতা হারায়। যাকে বলে ক্রনিক কিডনি রোগ। ক্রনিক নেফ্রাইটিস কিডনি ফিল্টার আক্রমণ করে কমাতে পারে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হতে পারে। লিখেছেন শামীমা সরকার

মানুষের জন্মের ছয় সপ্তাহের মধ্যে কিডনির ফিল্টার মেমব্রেন সম্পূর্ণরূপে গঠিত হয়। ফলে কিডনি পূর্ণ শক্তিতে কাজ শুরু করতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিটি কিডনিতে প্রায় 10-12 মিলিয়ন ফিল্টার থাকে এবং প্রতি 24 ঘন্টায় 180 লিটার রক্ত ​​পরিশোধন করে। এই বিশুদ্ধ রক্ত ​​থেকে এক থেকে তিন লিটার শরীরের বর্জ্য প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হয়। যদি কোনো কারণে এই ধরনের ফিল্টার বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে এটি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হতে পারে। কিডনি কতটা ভাল কাজ করছে তা পরিমাপ করতে কিডনির কার্যকারিতা পরিমাপ করতে রক্তের ক্রিয়েটিনিন ব্যবহার করা হয়। দুঃখের বিষয় হল এই জৈব পদার্থটি কিডনির 50 শতাংশ কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেলেই শরীরে বাড়তে পারে। একজন সুস্থ পুরুষের শরীরে 1.4 মিলিগ্রাম ক্রিয়েটিনিন এবং একজন মহিলার শরীরে 1.3 মিলিগ্রাম স্বাভাবিক হিসাবে বিবেচিত হয়। যদি ক্রিয়েটিনিনের উচ্চ মাত্রা তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে শরীরে থেকে যায়, তবে এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হিসাবে নির্ণয় করা হয়।

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। ফলে বছরের পর বছর তারা চিকিৎসার সাহায্য নেয় না। ক্রনিক কিডনি রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সবারই ধারণা থাকা দরকার। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি ব্যর্থতার কারণে বমি বমি ভাব, ক্ষুধা হ্রাস, রক্তাল্পতা, জল ধরে রাখা, শ্বাসকষ্ট এবং প্রস্রাবের অসংযম, ডার্মাটাইটিস ছাড়াই শরীরে চুলকানি এবং প্রতিদিনের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। প্রধান একটি হৃদরোগ। দেশের ৮০ শতাংশ কিডনি রোগী এই উপসর্গগুলির জন্য ডাক্তারের কাছে যান এবং রক্ত ​​পরীক্ষায় দেখা যায় যে অন্তত ৭০ শতাংশ কিডনির কার্যকারিতা বিকল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কিডনির কার্যকারিতা 75 শতাংশ হারানোর সাথে চিকিত্সা করে কিডনিকে পূর্ণ সুস্থতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। এক পর্যায়ে রোগীর মৃত্যু হয়। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ যদি প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা যায়, তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে এসব রোগ আংশিক বা সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব।

তাই দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা খুবই জরুরি। নিয়মিত চেকআপ প্রয়োজন। শুধুমাত্র সচেতনতার মাধ্যমেই জানা যাবে একজন রোগীর কিডনির সমস্যা আছে কি না। একজন প্রাপ্তবয়স্কের উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক না কেন, তাদের রক্তচাপ নিয়মিত পরিমাপ করা দরকার, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন নিঃসৃত হচ্ছে কিনা এবং তাদের ডায়াবেটিস আছে কিনা। যদি কারও ডায়াবেটিস থাকে, তবে তাদের প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা মাইক্রোঅ্যালবুমিন আছে কিনা এবং তাদের রক্তের ক্রিয়েটিনিন স্বাভাবিক কিনা তা দেখতে বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করা দরকার।

আরও পডুন- চোখের জন্য উপকারী খাবার

ধারণা করা হয়, দেশে ১৬ মিলিয়ন কিডনি রোগী রয়েছে। বাংলাদেশে কিডনি ফাউন্ডেশন এবং বিএসএমএমইউ তিন বছর ধরে সাভারের আশুলিয়া গ্রামে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ নিয়ে গবেষণা করছে। 3,000 প্রাপ্তবয়স্কদের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রায় 16 শতাংশের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ ছিল। এর মধ্যে 13 শতাংশের রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 15,625 প্রাপ্তবয়স্কদের 2003 সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে 11 শতাংশের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ ছিল। অস্ট্রেলিয়ায় এই সংখ্যা 16 শতাংশ এবং আইসল্যান্ডে 10 শতাংশ৷

বিভিন্ন হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০,০০০ রোগী সম্পূর্ণ কিডনি বিকল হয়ে মারা যায়। কিডনি বিকল হওয়ার জন্য নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপকে দায়ী করা হয়। নেফ্রাইটিসের প্রধান কারণ হল ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ভাইরাল হেপাটাইটিস, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর এবং ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। খাদ্যে রাসায়নিক যোগ করা এবং এতে ভেজাল করা দীর্ঘস্থায়ী সুদের নেফ্রাইটিসের জন্য দায়ী করা যেতে পারে। এমনকি পানিতে আর্সেনিকের উচ্চ মাত্রা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বুধ, সীসা, সোনা এবং অন্যান্য ধাতু কিডনি রোগের কারণ হতে পারে।

কিডনি পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেলে শুধুমাত্র ওষুধ দিয়ে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। বর্তমানে, বিশ্বে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করা রোগী সফল কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে 5 থেকে 15 বছর এবং 10-15 বছর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। বিশ্বে নিয়মিত হেমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে রোগীরা নিয়মিতভাবে সর্বোচ্চ 30 বছর বেঁচে থাকে এবং 33 বছরের সফল কিডনি প্রতিস্থাপনের রেকর্ড রয়েছে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস মানে সপ্তাহে তিনবার হেমোডায়ালাইসিস মেশিন দিয়ে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা। কিডনি প্রতিস্থাপন বলতে নিকটাত্মীয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনকে বোঝায়। তবে উন্নত বিশ্বে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির কিডনি ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশে গ্রাম পর্যায়ে চলমান গবেষণা দেখায় যে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগীদের মাত্র 16.5% উচ্চ রক্তচাপ, 5% ডায়াবেটিস এবং 6% প্রস্রাবে প্রোটিন নিঃসরণ করে। 5% ডায়াবেটিস রোগীদের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ আছে বলে মনে করা হয়। গবেষণায় রোগীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তারা তাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা প্রোটিনুরিয়া সম্পর্কে জানেন কিনা। রোগীদের 80% তাদের ডায়াবেটিস জানেন না, উচ্চ

আরও পডুন- চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায়

ইন্টারনেটে সার্চ হয় এমন কিওয়ার্ড সমুহ
১ কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ
২ কিডনি পাথর রোগের লক্ষণ
৩ বাচ্চাদের কিডনি রোগের লক্ষণ
৪ বিড়ালের কিডনি রোগের লক্ষণ
৫ মেয়েদের কিডনি রোগের লক্ষণ
৬ শিশুদের কিডনি রোগের লক্ষণ
৭ কিডনি রোগের লক্ষণ bd
৮ কি কিডনি রোগের লক্ষণ
৯ কিডনিজনিত রোগের লক্ষণ
১০ কিডনি রোগের লক্ষণ কি
১১ কিডনি রোগের লক্ষণ ও
১২ কিডনি রোগের কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার
১৩ কিডনি পাথর রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
১৪ কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো কি কি
১৫ কিডনি রোগের লক্ষণ সমূহ
১৬ কিডনি রোগের লখন কি
১৭ কিডনি রোগের লক্ষণ কী
১৮ কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ কি

Sharing Is Caring:

Leave a Comment