মধু খাওয়ার উপকারিতা

সুচিপত্র

মধুর স্বাস্থ্য উপকারিতা

মধু মানুষের জন্য স্রস্টা প্রদত্ত একটি বিস্ময়কর আশীর্বাদ। মধুর স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং নিরাময় বৈশিষ্ট্য অমূল্য। রাসুল (সা.) একে ‘খায়রুদ্দাওয়া’ বা ভেষজ ওষুধ বলেছেন। আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসায় মধুকে ভেষজ ওষুধও বলা হয়। এটি যেমন একটি শক্তিশালী, সুস্বাদু এবং সুস্বাদু খাবার, তেমনি এটি একটি নিরাময়কও বটে। আর সেই কারণেই সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এই নির্যাসটি ব্যবহার করে আসছে, যা খাদ্য এবং ওষুধ উভয়ই সমৃদ্ধ,

মধু খাওয়া

পরিবারে পুষ্টিকর এবং শক্তিশালী পানীয় হিসাবে প্রাচীনকাল থেকে। মধুর প্রধান উপাদান হল চিনি। আমরা অনেকেই চিনি এড়িয়ে চলি। কিন্তু মধুতে গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ উভয়ই সরাসরি বিপাক হয় এবং চর্বি হিসাবে জমা হয় না।

মধুতে কি কি উপাদান রয়েছে

মধু খাওয়ার উপকারিতা
মধু খাওয়ার উপকারিতা

মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা করা মিষ্টির নমুনাগুলি দেখিয়েছে যে এতে অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, তামা, সীসা, টিন, জিঙ্ক এবং জৈব অ্যাসিড (যেমন ম্যালিক অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড, টারটারিক অ্যাসিড এবং অক্সালিক অ্যাসিড), কিছু ভিটামিন, প্রোটিন, হরমোন এবং অ্যাসিড রয়েছে। . কোলিন, অ্যান্টিবায়োটিক, ফাইটনসাইড, সিস্টোস্ট্যাটিক্স এবং জল (19-21%) ছাড়া অন্যান্য পুষ্টি রয়েছে।

মধুতে কোন কোন ভিটামিন রয়েছে

ভিটামিন যেমন ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন ইত্যাদি মধু এক প্রকার। ওষুধ যা অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-কোলেস্টেরল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

মধু খাওয়ার নিয়ম

প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে খালি পেটে দুই চা চামচ মধু ডান হাতের তালুতে নিয়ে চেটে নিন।

মধু খাওয়ার সঠিক নিয়ম

সঠিক উপায়ে মধু খেলে যেমন অনেক উপকার পাওয়া যাবে, তেমনি ভুল উপায়ে মধু খেলে অনেক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

১ গরম পানি বা গরম দুধে মধু মেশানো ঠিক নয়।
২ কখনই মধু গরম করে বা রান্না করে খাওয়া ঠিক নয়্।
৩ দুধের সাথে মধু খেতে চাইলে প্রথমে দুধ ভালো ভাবে ঠান্ডা করে নিতে হবে।
৪ সকালে খালি পেটে মধু খাওয়া হল মধু খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় ।
৫ নতুন সংগ্রহ করা মধু পুরানো মধুর চেয়ে বেশি কার্যকর।
৬ লেবুর রসের সঙ্গে কাঁচা মধু মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি কমে।
৭ হজমের সমস্যা সমাধান করতে প্রতিদিন পেট ভরে ভারী খাবারের আগে এক চামচ মধু খেয়ে নিতে হবে।
৮ রক্তনালীর সমস্যা সারাতে মধুর সাথে দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। মধু ও দারুচিনির এই মিশ্রণ নিয়মিত সেবনে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে।
৯ লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং লিভার পরিষ্কার রাখে।
১০ যৌন দুর্বলতা কমাতে প্রতিদিন বেসন দিয়ে মধু খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
১১ দুই চা চামচ মধু ও তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশি নিরাময় হয়।
১২ এক চা চামচ তুলসী পাতার রস ও সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে খেলে অল্প সময়েই কাশি ভালো হয়ে যায়।
১৩ কচি বেল ও আম গাছের কচি চামড়া গুড় ও মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে ডায়রিয়া নিরাময় হয়।
১৪ গুড়ের রস মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়।
১৫ এক চা-চামচ আদার রস ও এক চা-চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সকাল-সন্ধ্যা সেবনে সর্দি ও ক্ষুধা বাড়ে।

মধু যে সব রোগ থেকে আপনােক মুক্তি দিবে?

নিয়মিত ও পরিমিত মধু সেবনের উপকারিতা। গুলো এক নজরে দেখে নিন

1. মধু হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। রক্তনালীগুলির প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত ​​সঞ্চালনে সহায়তা করে এবং কার্ডিয়াক কার্যকলাপ বৃদ্ধি করে;
2. মধু অনাক্রম্যতা বাড়ায়;
3. মধু দাঁত পরিষ্কার এবং শক্তিশালী করে;
4. মধু দৃষ্টিশক্তি এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়;
5. মধুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শক্তি, যা শরীরকে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করে;
6. মধু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং কোষকে বিনামূল্যে র্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে;
7 . মধু খেলে বার্ধক্য খুব দেরিতে আসে;
8 . মধুর মিষ্টি ক্যালরি রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে রক্ত ​​পাতলা করে;
9. যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য নিয়মিত মধু খাওয়া অত্যন্ত উপকারী;
10. মধু গ্লাইকোজেনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে;
11. মধু অন্ত্রের রোগে উপকারী। মধু একাই পেটের বিভিন্ন রোগ নিরাময় করতে পারে;
12. মধু আলসার এবং গ্যাস্ট্রিক রোগের জন্য উপকারী;
13. মধু দুর্বল শিশুদের মুখের ভিতরের ক্ষত পচানোর জন্য খুবই উপকারী;
14. মধু শরীরের বিভিন্ন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং উষ্ণতা বাড়ায়;
15. মধু, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ, স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের টিস্যুকে শক্তিশালী করে;
16. মধুতে রয়েছে স্টার্চ হজমকারী এনজাইম এবং খনিজ উপাদান যা চুল ও ত্বককে সুস্থ রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে;
16. মধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে;
16. মধু ক্ষুধা, হজম এবং ক্ষুধা বাড়ায়;
19. মধু রক্ত ​​শুদ্ধ করে;
20. মধু শরীর এবং ফুসফুসকে শক্তিশালী করে;
21. মধু জিহ্বার জড়তা দূর করে;
22. মধু নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করে;
23. মধু বাতের ব্যথা উপশম করে;
24. মধু মাথাব্যথা উপশম করে;
25. মধু শিশুদের শরীরের আকার এবং ওজন বৃদ্ধি করে;
26. মধু গলা ব্যথা, কাশি, হাঁপানি এবং সর্দি-কাশির জন্য বিশেষভাবে উপকারী;
26. মধু শিশুরা যদি প্রতিদিন অল্প পরিমাণে মধু খেতে অভ্যস্ত হয় তবে তাদের সর্দি, কাশি, জ্বর ইত্যাদি সহজ হবে না;
26. মধু শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং শক্তি দীর্ঘায়িত করে;
29. মধু অনুশীলনকারীদের শক্তি বৃদ্ধি করে;
30. মধু খাওয়া শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায় যাতে শরীর সুস্থ, সতেজ এবং কার্যকরী হয়।

মধুর উপকারিতা

মধু একটি ভালো শক্তির উৎস খাবার। মধু শরীরে তাপ ও ​​শক্তি যোগান দিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।

মধুতে থাকা শর্করা সহজে হজম হয়। কারণ এতে থাকা ডেক্সট্রিন সরাসরি রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করে।
মধু ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। সকালে ১ চা চামচ খাঁটি মধু পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও এসিডিটি দূর হয়।

মধু রক্তস্বল্পতা কমাতে মধু

মধু রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে। মধু রক্তে হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করে। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর কপার, আয়রন এবং ম্যাঙ্গানিজ। মধু উচ্চ ঔষধি গুণসম্পন্ন একটি ঔষধি তরল। রক্তশূন্যতার সমস্যায় এই মধু খুব ভালো কাজ করে।

মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা- ব্ল্যাকবেরি এবং মধুতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। ইসলামিক হাদিস অনুসারে, কালোজাম মৃত্যু ছাড়া সব রোগের নিরাময়। অনিদ্রা এবং মাথাব্যথার মতো অনেক অসুখের ওষুধও কালোজিরা। মধু বিভিন্ন রোগের দারুণ ওষুধ। কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তচাপ, দাঁতের ব্যথা ও কাশির মতো রোগেও মধু ব্যবহার করা হয়।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে মধু

মধু রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য মধুর কোনো বিকল্প নেই। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের প্রতিদিন সকালে ও রাতে খালি পেটে লেবুর সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে হবে। দেখবেন কয়েকদিনের মধ্যেই আপনার উচ্চ রক্তচাপ উপশম হয়ে যাবে। মধু এবং ব্ল্যাকবেরি দুর্বল রোগীদের জন্য খুব সহায়ক কারণ তারা সাধারণত খাওয়ার পরে দুর্বলতা নিরাময় করে। আশা করি এই মধু ও কালোজির উপকারিতা এবং মধু কালোজি খাওয়ার নিয়ম বুঝতে পেরেছেন।

যৌন সমস্যায় মধু

আমাদের অনেকেরই বিভিন্ন গোপন রোগ আছে। এই গোপন সমস্যার একমাত্র ঘরোয়া প্রতিকার হল মধু। মধু যৌন ক্ষমতাও বাড়ায়। সাধারণত প্রতিদিন এক গ্লাস গরম দুধের সাথে মধু মিশিয়ে পান করলে যৌন শক্তিতে ভালো ফল পাওয়া যায় এবং আপনার শরীরও থাকবে সতেজ। এছাড়াও, আপনি যদি কালোজিরার সাথে মধু মিশিয়ে খান তবে এটি আপনার জন্য অনেক ভালো হবে। যৌন সমস্যায় মধু কার্যকর ভূমিকা পালন করে। যৌন শক্তি বাড়াতে সপ্তাহে অন্তত ৩/৪ দিন ১ গ্লাস গরম পানিতে ১ চা চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে পান করুন।

মহিলাাদের ঋতুস্রাব অনিয়মিত হলে এক চা চামচ তুলসীর রসের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু এবং এক চিমটি বা একটি কালো গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে দিনে দুবার করে নিয়মিত দুই মাস খেলে উপকার পাওয়া যায়।

হাঁপানি প্রতিরোধে মধু

হাঁপানি প্রতিরোধে এবং ফুসফুসের সমস্ত রোগ এবং শ্বাসকষ্ট সারাতেও মধু সাহায্য করে। মধু হাঁপানি এবং ফুসফুসের রোগ নিরাময় করে। মধুকে ফুসফুসের সকল রোগে উপকারী বলা হয়। হাঁপানি রোগীকে তার নাকের কাছে মধু দিয়ে শ্বাস নেওয়া হলে তিনি স্বাভাবিকভাবে এবং গভীরভাবে শ্বাস নিতে সক্ষম হবেন। অনেকেই মনে করেন এক বছরের মধু হাঁপানির রোগীদের জন্য খুবই ভালো। আধা গ্রাম কালো গোলমরিচের সাথে সমপরিমাণ মধু ও আদা মিশিয়ে নিন। দিনে অন্তত তিনবার এই মিশ্রণটি খান। এটি হাঁপানি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

অনিদ্রার জন্য মধু সেবন

অনিদ্রার জন্য মধু একটি ভালো প্রতিকার। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানিতে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে গভীর ঘুম হয়।
যৌন দুর্বলতায় মধু খুবই সহায়ক। এছাড়া হালকা গরম দুধের সাথে মধু মিশিয়ে একটি প্রশান্তিদায়ক পানীয়। যৌবন ধরে রাখতেও মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। মধু একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রঙ এবং ত্বককে সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ এবং বার্ধক্য রোধ করে। শরীরের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং যৌবন বৃদ্ধি করে।

দাঁতের ক্ষয় রোধে মধু

মৌখিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে মধু ব্যবহার করা হয়। এটি দাঁতে ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। পিত্তথলির পাথর প্রতিরোধ করে এবং দাঁতের ক্ষয় কমায়। মধু মুখের ঘাগুলির জন্য ভাল এবং সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশিয়ে পানিতে গার্গল করলে মাড়ির প্রদাহ উপশম হয়।

পাকস্থলীকে শক্তিশালী করতে মধু

মধু পাকস্থলীকে শক্তিশালী করে এবং হজমের ব্যাঘাত দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের নিঃসরণ হ্রাস করে, তাই বমি বমি ভাব, বমি এবং বুকজ্বালা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শীতে শরীর গরম রাখতে মধুর উপকারীতা

শীতের ঠান্ডায় শরীর গরম রাখে। এক কাপ ফুটন্ত পানির সাথে এক বা দুই চা চামচ মধু শরীরকে পরিষ্কার ও সতেজ রাখে।
ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে 50 মিলি মধু মিশিয়ে খেলে পানিশূন্যতা রোধ করা যায়।

যৌবন ধরে রাখতে মধুর উপকারীতা

যৌবন ধরে রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। এটি একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রঙ এবং ত্বকের টোন বাড়ায়। ত্বকের ভাঁজ এবং বার্ধক্য রোধ করে। শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও যৌবন বৃদ্ধি করে।

ত্বকের সৌন্দর্য  বাড়াতে মধুর উপকারীতা

মেয়েদের সৌন্দর্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। মুখের ত্বকের মসৃণতা বাড়াতেও মধু ব্যবহার করা হয়।
মধুতে কোন প্রকার চর্বি থাকে না। তাই মধু পেট পরিষ্কার করতে সাহাজ্য করে, এছাড়াও মধু মেদ কমিয়ে দেয়, ফলে শরীরের ওজনও কমাতে পাবে।

আরও পড়ুন- কলার উপকারিতা

হৃদরোগে মধুর উপকারীতা

এক চা চামচ মৌরি গুঁড়ার সঙ্গে এক বা দুই চা চামচ মধুর মিশ্রণ হৃদরোগে টনিক হিসেবে কাজ করে। এটি হার্টের পেশীকে শক্তিশালী করে এবং এর কার্যক্ষমতা বাড়ায়। মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ভিতরে ও বাইরে যেকোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতাও প্রদান করে। মধুতে এক ধরনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট রয়েছে যা শরীরকে অবাঞ্ছিত সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

ছয় মাস বয়স থেকে শিশুদের নিয়মিত অল্প পরিমাণে (তিন থেকে চার ফোঁটা) মধু খাওয়াতে হবে। এতে তাদের পুরো শরীর বাড়বে, মানসিক বিকাশ ভালো হবে।

মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। কারণ মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন এবং এনজাইম যা শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খেলে সর্দি, কাশি ইত্যাদি সমস্যা কমে যায়।
মধুর সাথে দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে রক্তনালীর সমস্যা দূর হয় এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে। মধু ও দারুচিনির এই মিশ্রণ নিয়মিত সেবনে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

আরও পড়ুন- চোখের জন্য উপকারী খাবার

মধু হজম সমস্যায় মধুর উপকারীতা

হজম শক্তি বাড়াতে মধু – হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন সকালে মধু খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। মধু পেটের অম্লতা কমিয়ে হজমে সাহায্য করে। হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যদি মধু খেতে চান, তাহলে প্রতি ভারী খাবারের আগে এক চামচ মধু খান। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু কিন্তু খুবই উপকারী। এতে থাকা শর্করা সহজে হজম হয়। কারণ এতে থাকা ডেক্সট্রিন সরাসরি রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং অবিলম্বে কাজ করে। পেটের অসুখে ভুগছেন তাদের জন্য মধু বিশেষ উপকারী।

মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা যা শরীরে শক্তি জোগায় এবং সক্রিয় রাখে। বিশেষ করে যারা মিষ্টি কিছু খেতে পছন্দ করেন, তারা অন্যান্য মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে মধু খেতে পারেন। মধু শরীরের দুর্বলতা ও চা-কফির নেশা কমায়।

আরও পড়ুন- মধুমতি কোন নদীর শাখা নদী

সকালে খালি পেটে মধুর উপকারিতা

সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে ওজন কমতে সাহায্য করে। এটি লিভারকেও পরিষ্কার রাখে।

মৌমাছি পালনের উপকারিতা

অধিক ফসল উৎপাদনে সাহায্য করে: মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যায়। মৌমাছি পালন এখন পরাগায়নের একটি আধুনিক প্রযুক্তি। এটি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত যে মৌমাছি দ্বারা সফল পরাগায়ন সম্ভব। ফুলের সময়কালে, মৌমাছিরা তাদের পায়ে এবং বুকের চুলে প্রচুর পরিমাণে ফুলের পরাগ বহন করে। এক ফুলের পরাগ অন্য ফুলের গর্ভে পড়লে পরাগ হয়, ফলে ফল হয়। মৌমাছি-পরাগায়িত ফসলের উৎপাদন বিভিন্ন মধু-ফুল মৌসুমে 10 থেকে 15 শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত উদ্বৃত্ত ফসলের মূল্য উৎপাদিত মধু ও মোমের মোট মূল্যের তুলনায় 10 থেকে 15 শতাংশ বেশি।

মধু উৎপাদনে বেকারত্ব দূরীকর
মধু উৎপাদনে বেকারত্ব দূরীকর

মধু উৎপাদনে বেকারত্ব দূরীকর

কুটির শিল্পে ভূমিকা ও বেকারত্ব দূরীকরণঃ মৌমাছি পালনকে কুটির শিল্প হিসেবে গ্রহণ করা হলে অনেক বেকারের কর্মসংস্থান হবে এবং আয় বৃদ্ধি পাবে। গ্রামীণ নিম্ন আয়ের পরিবারে মৌমাছি পালন একটি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করে।

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে অবদান

পরিসংখ্যান দেখায় যে 2014 সালে, বিশ্বব্যাপী 2.3 বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের মধু রপ্তানি হয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন হল বৃহত্তম মধু রপ্তানিকারক, যা মোট রপ্তানির 36.3% জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের মধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে সাম্প্রতিক কর্পোরেট কেলেঙ্কারির ফলে এই বিশেষত্বের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুন্দরবনে প্রাকৃতিক মধু সংগ্রাহক ছাড়াও বর্তমানে বিএসআইসি কর্তৃক প্রশিক্ষিত মৌমাছি পালনকারীর সংখ্যা প্রায় ৯,০০০। এসব চাষি বছরে গড়ে পাঁচ হাজার টন মধু উৎপাদন করে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশে ৫৫ কোটি টাকার ৫৫০ মেট্রিক টন মধু রপ্তানি হয়েছে। দিন দিন তা বেড়েই চলেছে।

আরও পড়ুন- ভাই বোনের কষ্টের স্ট্যাটাস

পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন

দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ কিন্তু পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে আমাদের এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। মধু এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। মধু জাতীয় খাবার হলেও এতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন, এনজাইম ও মিনারেল। একে সব রোগের ওষুধ বলা হয়।

আরও পড়ুন- উপকারীর অপকার করে যে

খাঁটি মধু উৎপাদন

খাঁটি ও মানসম্পন্ন মধু উৎপাদনে সাহায্য করে: সাধারণ নিয়মে মৌচাকের ছাদে চেপে মধু আহরণ করা হয়। মৌচাক থেকে মধু আহরণ সম্পূর্ণ না হওয়ায় মধুতে রয়েছে মোম, মৌমাছির ডিম, বাচ্চার রস ও অন্যান্য বর্জ্য। মৌমাছির মৌচাক থেকে যান্ত্রিকভাবে আহরণ করা মধু যেমন বিশুদ্ধ, আহরণও তেমনি।

মৌচাক ধ্বংস না করে মৌমাছি উৎপাদনে সাহায্য করে: একটি সাধারণ নিয়ম হিসাবে, মধু সংগ্রহের সময় মৌচাক ধ্বংস হয়ে যায়। এই কাজের সময় প্রচুর সংখ্যক মৌমাছিও মারা যায় অনেক ক্ষেত্রে। এ ছাড়া চাকার ডিম ও ছানা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দিন দিন মৌমাছির সংখ্যা কমছে।

খাঁটি মধু চেনার উপায়

অরিজিনাল মধু চেনার উপায়– মধুতে প্রায় 45টি পুষ্টি উপাদান রয়েছে। খাঁটি মধু এক গ্লাস পানিতে ফোঁটা আকারে নিঃসৃত হলে তা সরাসরি গ্লাসের নিচে ফোঁটা আকারে চলে যায়। ব্লটিং পেপারে কয়েক ফোঁটা মধু নিলে ব্লটিং পেপারে মধু শোষিত হবে না। ভেজাল মধু ব্লটিং পেপারকে আর্দ্র করে।

আরও পড়ুন- চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায় 

1 thought on “মধু খাওয়ার উপকারিতা”

Leave a Comment