চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

নারী-পুরুষ উভয়েই চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন। যাইহোক, যেহেতু পুরুষরা তাদের বেশিরভাগ সময় বাইরে কাটায়, তাই তাদের চুল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও, পুরুষরা তাদের চুলের যত্ন নেন না যতটা মহিলারা করেন।

সব মিলিয়ে অনেক পুরুষই কম বয়সে চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন। কারো কারো চুল পড়ে টাক হয়ে যায়। আর মাথার চুল কমে গেলে আত্মবিশ্বাসও কমে যায়। তাহলে উপায়?

না চুল পড়ার সমস্যা নিয়ে চিন্তার আর কিছু নেই। অনেক ক্ষেত্রে জীবনধারা পরিবর্তন এবং ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমে চুল পড়া বন্ধ করা যায়। তবে অনেকের জেনেটিক কারণে চুল পড়ে যায়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তাই আস্তে আস্তে পোস্টর মূল আলোচনায় দিকে আস্তে আস্তে পা বাড়াই।

চুল পড়া বন্ধের উপায়

চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল এমন একটি জিনিস যা বিশ্বের খুব কম লোকই অপছন্দ করে। কেউ লম্বা চুল পছন্দ করেন আবার কেউ ছোট চুল পছন্দ করেন। কেউ সোজা চুল পছন্দ করেন, কেউ কোঁকড়া চুল পছন্দ করেন। কিন্তু পাতলা চুল বা মাথা টাক পছন্দ করেন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই আমাদের জানতে হবে চুল পড়া বন্ধের উপায় বা যাতে চুল পড়া বন্ধ করা যায় সেই সব উপায়!

 

চুল পড়ার সমস্যা যেভাবে রূপ নিচ্ছে তাতে আমরা অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছি। চুল পড়া কমানোর কোন উপায় আছে কি না? এটিও চুল পড়ার কারন হতে পারে যদি আপনি প্রতি নিয়ত ভাবেন কিভাবে চুল পড়া কমানো যায়। এক কথায় বেশি চিন্তা করলে চুল পড়ে যাবে।

অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়

চুল পড়া রোধে রসুন, পেঁয়াজ বা আদার রস

ঘরোয়া উপায়ে চুল পড়া বন্ধ করতে রসুন, পেঁয়াজ বা আদার রস ব্যবহার করতে পারেন। এসব উপাদানের রস রাতে মাথার ত্বকে ব্যবহার করুন। সারারাত রেখে সকালে চুল পরিষ্কার করুন। নিয়মিত এই পদ্ধতি ৭ দিন অনুসরণ করলে ভালো ফল পাবেন।

আরও পড়ুনঃ আমার সোনার ময়না পাখি

চুল পড়া রোধে গ্রিন টি

গবেষণায় দেখা গেছে গ্রিন টি ব্যবহারে চুল পড়ার সমস্যা কমায়। এটি করতে, এক কাপ জলে দুটি গ্রিন টি ব্যাগ মিশিয়ে নিন। তারপর ঠান্ডা করে চুলের গোড়া থেকে সম্পুন চুলে ব্যবহার করুন। এক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। একটানা 8-10 দিন ব্যবহার করলে চুল পড়ার সমস্যা দূর হবে।

 

চুল পড়া রোধে মেথি

আধা কাপ নারকেল তেলে ১ চা চামচ মেথি দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। ঘন্টা খানিক অপেক্ষা করুন এবং হালকা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

চুল পড়া রোধে অ্যালোভেরা জেল

সপ্তাহে দুবার চুলে অ্যালোভেরা জেল লাগান। অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল সংগ্রহ করে চুলের প্রান্ত থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান। ভেষজটি লাগিয়ে 20 মিনিট অপেক্ষা করুন এবং শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল পড়া বন্ধ হবে এবং চুল চকচকে হবে।

 

চুল পড়া রোধে মেহেন্দি ও সরিষার তেল

250 মিলি সরিষার তেলে 20টি মেহেদি পাতা দিয়ে সিদ্ধ করুন। ঠাণ্ডা হলে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। 20 মিনিট অপেক্ষা করে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার এই তেল ব্যবহার করুন।

 

চুল পড়া রোধে ডিমের কুসুম এবং মধু

ডিমের কুসুম বিট করে মধু মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন। আধা ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আরও পড়ুনঃ লম্বা হওয়ার উপায় ও ব্যায়াম

চুল পড়া রোধে নিম পাতার ব্যবহারঃ

সুস্ক ত্বক বা খুশকির কারণে প্রায়ই চুল পড়ে যায়। খুশকি এক ধরনের ছত্রাক তাই একে অবহেলা করবেন না। এটি দুর করতে মাথার ত্বকে নিম পাতার পেস্ট ব্যবহার করুন। নিম পাতার পেস্ট করে মাথার ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এটি খুশকিসহ যেকোনো ধরনের ছত্রাককে মেরে ফেলবে। এটি চুল পড়া রোধ করার একটি কার্যকর উপায়।

 

চুল পড়া রোধে পেঁয়াজ:

চুল পড়া রোধে পেঁয়াজ খুবই জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। পেঁয়াজ ব্যবহার করা খুবই সহজ এবং কার্যকরী। চুল পড়া বন্ধ করতে পেঁয়াজের রস খুবই কার্যকরী। পেঁয়াজের রস সরাসরি চুলের গোড়ায় ঘষুন। তীব্র গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। 20 মিনিট অপেক্ষা করুন এবং শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আমরা যারা চুলের খুব একটা যত্ন নিই না তারা এটা ব্যবহার করতে পারি। বিশেষ করে ছেলেরা চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য একটি পেঁয়াজ নিন এবং পেঁয়াজের রস ছেঁকে নিয়ে মাথায় লাগান। রাতে প্রয়োগ করুন এবং সকালে পরিষ্কার করুন। এতে চুল পড়া অনেকাংশে কমে যাবে।

এছাড়া বেশি পরিমাণে চুল ঝরতে থাকলে চুল পড়া রোধে বিভিন্ন প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি টক দই এবং কলার প্যাক, মেথি এবং মেহেদি প্যাক, ঘৃতকুমারী এবং তেল প্যাক সহ বিভিন্ন প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

 

চুল পড়া রোধে শ্যাম্পু:

চুল পড়া রোধে কিছু ভালো ভালো কম্পানির শ্যাম্পু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু চুলের অনেক ক্ষতি করে। আবার কেমিক্যাল মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল সুন্দর চকচকে হয়। চুল পরা বন্ধ হয়. তাই আমাদের উচিত কেমিক্যাল মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার না করা । এ জন্য তেঁতুলের পানি ও রিতা ব্যবহার করে আমরা ঘরেই শ্যাম্পু করতে পারি। অথবা বাজার থেকে শ্যাম্পু কেনার সময় দেখে নেব এতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক আছে কি না।

আর অতিরিক্ত পরিমাণে শ্যাম্পু ব্যবহার করা ঠিক নয়। সপ্তাহে ২-৩ দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার, চুলে প্রচুর ময়লা জমে যাওয়ার পরে শ্যাম্পু করা যায় না। শুষ্ক চুলে সরাসরি শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। শ্যাম্পু ব্যবহারের আগের রাতে চুলে তেল লাগান এবং শ্যাম্পু করার আগে পানি দিয়ে মাথা ভিজিয়ে রাখুন, তারপর শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পু করার সময় চুল শক্ত করে টানবেন না, মসৃণভাবে ব্যবহার করুন।

 

চুল পড়া বন্ধে তেল

চুল পড়া বন্ধে তেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যত কিছই ব্যবহার করুন না কেন, চুলে সঠিক সময়ে তেল না দিলে চুল পড়া কমবে না। তাই চুলে নিয়মিত তেল লাগান। তেল চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করে, তাই তেল লাগালে চুল পড়া কমে। নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে ২-৩ দিন তেল দিন।

কয়েক ধরনের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে সপ্তাহে একবার চুলে ম্যাসাজ করুন। প্রথমে একটু গরম করুন। ম্যাসাজ শেষে গরম তোয়ালে দিয়ে চুল মুড়িয়ে নিন। 15 মিনিট পর তোয়ালে খুলুন এবং আরও 10 মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আরও পড়ুনঃ চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায়

চুল পড়া রোধে অলিভ অয়েল, জিরা এবং মধু

১ চা চামচ জিরা ১/৪ কাপ অলিভ অয়েল তেলে প্রায় ৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর মিশ্রণটি ছেঁকে তেল আলাদা করে নিন। তেলে সামান্য মধু মিশিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। 30 মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে দ্রুত কাজ হবে।

চুল পড়া বন্ধ করার ঔষধ

চুল পড়া রোধে ভিটামিন ই

চুল পড়ার সমস্যা সমাধানে চুলের গোড়ায় অর্থাৎ মাথার ত্বকে ভিটামিন ই ব্যবহার করুন। ভিটামিন ই মাথার ত্বকে রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ায়। ফলস্বরূপ, চুলের ফলিকলগুলি উত্পাদনশীল থাকে। ভিটামিন ই স্বাস্থ্যকর ও চুলের রঙও বজায় রাখে।

 

চুল পড়া রোধে পরিষ্কার রাখা

চুল নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। এটি সহজেই চুলের গোড়ায় জমে থাকা ময়লা দূর করে। ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়। মনে রাখবেন, অপরিষ্কার চুল খুশকি এবং মাথার ত্বকে বিভিন্ন জীবানু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

 

চুল পড়া রোধে খাবারের পরিবর্তন

অনেক সময় খাবারের পরিবর্তন হলে বা শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুল পড়ে যায়। তাই খাবারে চর্বি, মাংস, মাছ, সয়া এবং প্রোটিন রাখুন। এগুলো চুলের স্বাস্থ্য ভালো করে এবং চুল পড়া বন্ধ করে।

 

ভেজা চুল

ভেজা চুল কখনই আঁচড়াবেন না। অনেক মানুষ এটার সাথে একমত নাও হতে পারেন। ভিজে গেলে চুলের গোড়া নরম থাকে। ফলে চুল আঁচড়ানোর সময় চুল পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

 

পানিশূন্যতা

শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলেও চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই চুল পড়ার সমস্যা বাড়লে বুঝবেন আপনার শরীর পানিশূন্য হতে পারে। তাই প্রতিদিন অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ কিভাবে ফর্সা হয়

মাথার ত্বক বেশি তৈলাক্ত

মাথার ত্বক যেন খুব বেশি তৈলাক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। অনেকের মাথার ত্বকে বেশি ঘাম হয়। ঘামের কারণে মাথার ত্বকে বেশি ময়লা জমে। ফলে বেশির ভাগ পুরুষদের চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ জন্য অ্যালোভেরা ও নিম এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তাহলে মাথা ঠান্ডা থাকবে এবং চুল কম ঘামবে।

 

 ধূমপান ও মদ্যপান

ধূমপান ও মদ্যপানের কারণেও চুল পড়তে পারে। ধূমপান মাথার ত্বকে প্রবাহিত রক্তের পরিমাণ হ্রাস করে। ফলে চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তাই ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

 

ব্যায়াম করুন

প্রতিদিন ব্যায়াম করুন। দিনে অন্তত 40 মিনিট হাঁটুন। আপনি সাঁতার কাটতে বা সাইকেল চালাতেও যেতে পারেন। এটি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং চাপের মাত্রা কমিয়ে দেবে। ফলে চুল পড়ার সমস্যা কমে যাবে।

 

খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তন

চিনি, জাঙ্ক ফুড, অ্যালকোহল, ধূমপান, কাঁচা ডিম এবং ডায়েট সোডা জাতীয় খাবারের যেকোনো একটি খেলে আপনার চুল পড়ে যাবে। তাই চুল পড়া বন্ধের উপায় চাইলে এই খাবারগুলো বাদ দিতেই হবে। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার এবং সবুজ শাক-সবজি খেতে হবে।

এছাড়াও আপনার চুল পড়াও নির্ভর করবে আপনি সঠিক সময়ে ঘুমাচ্ছেন কিনা সেটার উপরে। আপনি যদি রাতে 8 ঘন্টার কম ঘুমান তবে আপনার চুল পড়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত সঠিক সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস তৈরী করুন। এছাড়াও দিনে অধিক পরিমানে পানি পান করার চেষ্ট করুন।

 

মাথায় গরম পানি ব্যবহার করবেন না

মাথায় গরম পানি ব্যবহার করলে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়, তাই গরম পানি ব্যবহার করবেন না।

 

হেয়ার ড্রায়ারে চুল শুকবেন না

হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাস চুলের জন্য ক্ষতিকর তাই হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

আরও পড়ুনঃ ত্বক ও চুলের সৌন্দর্যে পদ্ম/শাপলাফুলের উপকারিতা

মাথায় তেল দিতেই হবে

অনেকেই মনে করেন মাথায় তেল না দেওয়াটা একটা ফ্যাশন, কিন্তু তেল না দিলে চুলের গোড়া রুক্ষ হয়ে যায়, চুল পড়ে যায়, তাই সপ্তাহে 2 দিন অন্তত তেল দিন।

 

কেমিক্যাল যুক্ত শ্যাম্পু প্রত্যাহার করুন

আপনাকে যদি কেমিক্যাল যুক্ত শ্যাম্পু প্রত্যাহার করতে না পারেন তাহলে আপনাকে আপনার চুল হারাতে হবে।

 

মাথার ত্বকে কন্ডিশনার লাগাবেন না

মাথার ত্বকে শ্যাম্পু লাগালে লোমকূপ দুর্বল হয়ে যায়, তাই মাথার ত্বকে শ্যাম্পু লাগাবেন না। তবে অগ্রভাগে শ্যাম্পু লাগান, এতে চুল ঝলমলে হয়।

টানা দুই সপ্তাহ এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার চুল পড়ার সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হয়ে যাবে। তারপরও না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চুল পড়ার কারণ কি?

১. এন্ড্রোজেনিক হরমোন মহিলাদের চুল পড়ার এবং পুরুষদের টাক পড়ার সবচেয়ে বড় কারণ। এই হরমোনগুলি সাধারণত পুরুষের শরীরে প্রচুর পরিমাণে থাকে। যাদের শরীরে এই হরমোনের প্রভাব বেশি, তাদের চুল পড়ে বেশি। মহিলাদের মেনোপজের সময় এবং পরে অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন আনুপাতিকভাবে বৃদ্ধি পায়। তারপর হঠাৎ করেই চুল আরও বেশি পড়তে শুরু করে।

২.  ছত্রাকের সংক্রমণ বা খুশকি চুল পড়ার অন্যতম কারণ। সেক্ষেত্রে চুলে অ্যান্টিফাঙ্গাল শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। এর জন্য আপনাকে ওষুধ খেতে হতে পারে। ইনফেকশন ভালো হয়ে গেলে চুল আবার গজায়।

৩. চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে শরীরের পুষ্টির ওপর। প্রতিদিনের খাবারে কার্বোহাইড্রেট, শর্করা, চর্বি, খনিজ এবং ভিটামিনের অভাবের কারণে চুল পড়ে। এ ছাড়া কোনো উপাদানের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে শরীর থেকে চুল পড়ে যায়।

৪.  আপনি যদি দুশ্চিন্তা বা মানসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়তে পারে। এমনকি টাক বা টাক হওয়ার চিন্তাও। তবে এই চুল পড়া সাময়িক এবং চুল আবার গজায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন থাকলে বা দুশ্চিন্তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে অনেক চুল পড়ে যেতে পারে।

৫.  হরমোনের অভাবে চুল পড়তে পারে। যেমন থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম বা বেশি হলে গর্ভাবস্থায় এবং শিশুর জন্মের পর হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তন হলে চুল বেশি পড়ে। হরমোনের এই পরিবর্তন যখন আগের অবস্থায় ফিরে আসে, তখন চুল আবার গজায়। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এক বছর সময় লাগতে পারে।

৬.  ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য কেমোথেরাপির পর চুল গজায়। কেমোথেরাপির প্রথম ডোজের দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর চুল পড়া শুরু হয় এবং কেমোথেরাপির শেষ ডোজ দেওয়ার তিন থেকে চার মাস পর চুল পাকা শুরু হয়।

৭. একটি বিশেষ স্টাইলের চুলের জন্য যদি চুল বেশিক্ষণ বেঁধে রাখা হয় বা শক্ত করে বেঁধে রাখা হয় বা বেণি করা হয় তাহলে এই ধরনের চুল পড়া শুরু হয়। লম্বা চুল বাঁধার কারণে চুল পড়া আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। ফলে টানার কারণে এই চুল পড়া চুল পড়ার স্থায়ী কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মনে রাখবেন অতিরিক্ত পরিমাণে হেয়ার কালারিং প্রসাধনী, চুল সোজা করা বা রিবন্ড করা চুল পড়ার হার বাড়িয়ে দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চুল আবার গজায়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে চুলের ফলিকল (যে গ্রন্থি থেকে চুল গজায়) স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চুল আবার গজাতে পারে না।

৮.  কিছু রোগে যেমন: রক্তশূন্যতা, টাইফয়েড, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, ডায়াবেটিস ইত্যাদিতে চুল পড়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগ সেরে গেলেও চুল আগের অবস্থায় ফিরে আসে না।

৯.  শরীরে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার বা অপারেশনের পর বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ, শারীরিক পরিবর্তন বা মানসিক দুশ্চিন্তার কারণে প্রায়ই চুল পড়ে যেতে পারে। তবে সুস্থ হওয়ার পর চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে চুল আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

১০.  চুল পড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হতে পারে, যেমন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, রক্তচাপের ওষুধ, রক্ত ​​পাতলা করার ওষুধ, হরমোন, মানসিক রোগের ওষুধ ইত্যাদি।

১১. টাক পড়ার জন্য বংশগত কারণ থাকতে পারে।

১২.  উপরের অনেক সমস্যা প্রতিরোধযোগ্য। চুল পড়া রোধ করার সঠিক উপায় জানা থাকলে আমরা সহজেই চুল পড়া রোধ করতে পারি। এতে কাজ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রতিরোধ
১.  পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খান। প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ গ্রহণ করুন।

২. চুলের খুশকি মুক্ত ও পরিষ্কার রাখুন।

৩. আপনাকে চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ চাল-ধোয়া পানি বা ভাতের ফ্যান‚ নিয়মিত ব্যবহার করলে পাবেন চুল ও ত্বকের সমস্যার ম্যাজিক সলিউশন

৪. বয়সের সাথে সাথে চুলের রং পরিবর্তন হয়, এটা মেনে নিতে হবে। কৃত্রিম রং যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৫.  যাদের চুল কোঁকড়া তারা কম বেশি সবাই চায় তা সোজা করতে কিন্তু এটা করার চেষ্টা না করাই ভালো। যদি করতে হয় তবে প্রয়োজনে রাসায়নিক কোন কিছু ব্যবহার না করে রোলার ব্যবহার করুন।

৬.  চুল টানা ঠিক নয়। আলতো করে চুল আঁচড়ান এবং ভেজা চুল বেশি আঁচড়াবেন না। কোমল থাকতে চুল ঠিক করুন। ব্রাশের চেয়ে দাঁত দিয়ে চিরুনি ব্যবহার করা ভালো।

৭. চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

৮. যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকিৎসা
যদিও বেশিরভাগ চিকিত্সায় কিছু উন্নতি হয়েছে, তবে তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। 2-5 শতাংশ মিনস্কিডিল ব্যবহারে বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। ইদানীং চুল প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, তবে তা ব্যয়বহুল।

আপনার জন্য বাচাই করা পোস্টঃ ভোটার আইডি কার্ড চেক

মেয়েদের চুল পড়া বন্ধ করার তেলের নাম

সরিষার তেলে আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য এবং কন্ডিশনার হিসেবে ভালো। ফলে চুল দ্রুত বাড়ে। চুলে নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহার করলে রোমকূপ মজবুত হবে এবং চুল পড়া বন্ধ হবে। সরিষার তেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বিভিন্ন খনিজ ও ভিটামিনের পাশাপাশি জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন এবং সেলেনিয়াম রয়েছে। যা চুলকে লম্বা করতে সাহায্য করে। তাই চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে গেলে নিয়মিত মাথার ত্বকে সরিষার তেল লাগাতে পারেন। এতে উপকার হবে।

আসুন জেনে নেই কিভাবে চুলে সরিষার তেল ব্যবহার করবেন?

1. সরিষার তেল, লেবুর রস এবং ধনে গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে চুলে লাগান। আধা ঘণ্টা রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল হবে মজবুত ও খুশকি মুক্ত।
2. টক দই এবং সরিষার তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান, একটি তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে মাথার ত্বকে রাখুন। আধা ঘণ্টা পর ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার বা দুইবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
3. চুলে সরিষার তেল এবং ঘৃতকুমারী 40 মিনিটের জন্য লাগান। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করুন।

2 thoughts on “চুল পড়া বন্ধ করার উপায়”

Leave a Comment