ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ কি কি

বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মশার সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে যায়। এ বছরও জুন মাস থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বাড়তে দেখা গেছে। ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা যখন একজন মানুষকে কামড়ায়, তখন চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে অক্রান্ত হয়। সারা বাংলাদেশে প্রতিদিনই ডেঙ্গু জ্বরের ঘটনা ঘটছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯৩০৪ জন।

যেহেতু দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সুস্থ থাকতে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলো কী কী তা জানা অনকে জরুরী। এই মশাবাহিত রোগটি, প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা না গেলে পরে তা, মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এই করোনার সময়ে কারো জ্বর হলেই মনে করে করোনা ভাইরাস আছে! শুধু করোনায় আক্রান্ত হলেই রোগী জ্বরে আক্রান্ত হয় এমন টা নয় বরং ডেঙ্গু ভাইরাসও জ্বরের কারণ হতে পারে।

ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ

১. ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ জ্বর, এই জ্বর ১০১ থেকে ১০৩ ডিগ্রি থাকতে পারে। তাছাড়া, জ্বর ১০০ ডিগ্রির নিচে থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে। এই জ্বরের ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ কি কিআরেক নাম ‘ব্রেক বোন ফিভার’।

২. প্রচন্ড মাথাব্যথা হতে পারে,

৩. চোখের পেছনে ব্যাথা হতে পারে,

৪. জ্বরের সঙ্গে সারা শরীরে ব্যথা, এবং শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠ, জয়েন্ট ও মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়।

৫. শিশুর শরীরে, এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে লালচে ছোট দানা দেখা যেতে পারে,

৬. শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে।

৭. রোগীর অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং ক্ষুধা কমে যায়।

৮. ৬ থেকে ৮ ঘন্টার মধ্যে শিশুদের প্রস্রাব না হওয়া মারাত্মক লক্ষণ গুলোর মধ্যে একটি,

৯. চোখ লাল হওয়া, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। জ্বর হওয়ার ৪ বা ৫ দিনের মধ্যে সারা শরীর জুড়ে লালচে দানা দেখা যায়, যাকে বলা হয় স্কিন র‌্যাশ। যা অনেকটা এলার্জি বা ঘামাচির মতো।

১০. পরিস্থিতি যদি গুরুতর হয় তাহলে শিশুর পেট ফুলে যেতে পারে। অনেক বমির সঙ্গে রক্তক্ষরণও হতে পারে।

১১. শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে যেমন: বমি, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া। এসব জটিলতা দেখা দিলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

১২. সাধারণত এই জ্বর ৪ বা ৫ দিন থাকার পর তা এমনিতেই চলে যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে ২ বা ৩ দিন পর আবারও জ্বর আসতে পারে। যাকে মেডিক্যাল ভাষায় বাই ফেজিক ফিভার বলে।

ডেঙ্গুর পাঁচটি প্রধান উপসর্গ

ডেঙ্গু লক্ষণ গুলোতো দেখলাম এবার আসুন আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করি। ডেঙ্গুর পাঁচটি প্রধান উপসর্গ কি কি না দেখে নেই। যা সকল ডেঙ্গু রোগীর মাঝে দেখা যাবে।

জ্বরঃ

ডেঙ্গুর একটি প্রধান লক্ষণ হল জ্বর। সাধারণত জ্বরের মধ্য দিয়েই ডেঙ্গু্ রোগীর প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায় । আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সাধারণত ৪-৫ দিন জ্বর থাকে। এই জ্বরের মাত্রা থাকে ১০২ ডিগ্রী- ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট । দিন ও রাতে সারাক্ষণ শরীরে এই জ্বর থাকতে পারে।

ব্যথাঃ

ডেঙ্গুর আরেকটি লক্ষণ হল ব্যথা। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা হয়। ডেঙ্গুর কারণে সাধারণত মাথায়, চোখের পেছনে, মাংশপেশী, শিরদাঁড়ায় তীব্র ব্যথা হয়।

র‍্যাশ ও রক্তক্ষরণঃ

র‍্যাশ ও রক্তক্ষরণ ডেঙ্গুর আরেকটি মারাক্তক লক্ষণ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরণের র‍্যাশ বা ঘামাছির মত উঠতে পারে। পাশাপাশি কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণও হতে পারে।

বমি ও পাতলা পায়খানাঃ

ডেঙ্গুর অন্যতম লক্ষণ আক্রান্ত ব্যক্তির বমি ও পাতলা পায়খানা হওয়া। দিনে একাধিকবার বমি ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই এটি হয়ে থাকে।

রক্তচাপ কমে যাওয়াঃ

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত পঞ্চাশ ভাগ রোগীর রক্তচাপ কমে যায় শরীর দুরবল হয়ে যায় এবং কিছু সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে ব্রেইন, হার্ট, কিডনী, বিকল হয়ে যেতে পারে।

ডেঙ্গু হলে করণীয়

ডেঙ্গু ধরা পড়লে কী করবেন?

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। আর, জ্বর হলে প্রচুর পরিমানে বিশ্রাম নিতে থাকুন। প্রচুর তরল পান করুন, বিশেষ করে ডাবের পানি, স্যালাইন, লেবুর রস, স্যুপ। এই ধরনের খাবার বেশি বেশি পরিমাণে খাওয়ার চেষ্ট করুন।

শিশুকে মায়ের বুকের দুধ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে চেষ্ট করুন।

চিকিৎসকরা সাধারণত ডেঙ্গুর ধরন বুঝে রোগীদের প্যারাসিটামল দেন। তারা বলে যে প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ 4 গ্রাম পর্যন্ত। তবে, যদি কোনও রোগীর হার্ট, লিভার এবং কিডনি সম্পর্কিত সমস্যা থাকে তবে তার অবশ্যই একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ঔষধ সেবন করা উচিৎ।

ডেঙ্গু হলে অ্যাসপিরিন জাতীয় অসুধ খাওয়া উচিত নয়। অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

ইদানীং অনেকেই প্লেটলেট কাউন্ট নিয়ে চিন্তিত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এ নিয়ে চিন্তা করবেন না। বিশ্রাম এবং পরামর্শ অনুসরণ অতি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ

ডেঙ্গু জ্বর চলে গেলে কী করবেন?

জ্বর চলে গেলেও বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর তরল পান করতে হবে। চিকিৎসকরা বলছেন, চার-পাঁচ দিন পার হলেও ডেঙ্গু রোগীরা পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছেন না। তারা শারীরীক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লাগছে।

তাই আমরা ধরে নিতে পারি আপনি সুস্থ হোয়ার পরও ১০ থেকে ১৫ আপনাকে সুম্পনর্ বিশ্রামে থাকতে হবে। ডেঙ্গু একাধিকবার হতে পারে এবং দ্বিতীয় আক্রমণে জটিলতা বেশি দেখা যায়। তাই কোন প্রকার জ্বর উপেক্ষা করা উচিত নয়। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন। মশা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। আর সেজন্য করণীয় ব্যবস্থা গ্রহন করুন।

ডেঙ্গু হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে?

ডেঙ্গু হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। রোগীর অবস্থা দেখে হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন চিকিৎসক। তবে রোগীর জ্বর কমে গেলেও তার মধ্যে অন্য কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ: প্রচুর বমি এবং পেটে ব্যথা। বিশেষ করে শিশুদের জ্বর কমে গেলেও দুই থেকে তিন দিন একটানা নজরদারি করতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি শ্রেণী রয়েছে – A, B এবং C।

A. ক্যাটাগরির রোগীরা স্বাভাবিক, তাদের শুধু জ্বর হয়ে থাকে।

B. ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীরা সবাই স্বাভাবিক। তবে তাদের শরীরে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন: পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব। অনেক সময় দেখা যায় জ্বর কমার দুদিন পর রোগীর শরীর খুব ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। সেক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হল।

C. ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ আবস্থায় রোগীকে নিয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ক্যাটাগরির আইসিইউ’র প্রয়োজন হতে পারে। তাহলে বুঝতেই পারছেন এটা কত বড় আকার ধারন করে।

ডেঙ্গু কি এই ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় ?

  • এবার আসুন জেনে নেই ডেঙ্গু কি এই ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় ?
  • ডেঙ্গু জ্বর ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা হয় এবং এডিস ইজিপ্টি মশার কামড়ে ছড়ায়।
  • যখন একজন ব্যক্তিকে ডেঙ্গু জ্বর বহনকারী মশা কামড়ায়, তখন সে ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় ।
  • এখন এই সংক্রামিত ব্যক্তিকে জীবাণুমুক্ত এডিস মশা কামড়ালে সেই মশা ডেঙ্গু জ্বর বহনকারী মশাতে পরিণত হয়। এভাবে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায়।
  • ডেঙ্গু ভাইরাস চার প্রকার। তাই চারবার ডেঙ্গু জ্বর হতে পারে।

যাইহোক, যারা আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের পরে যদি এই রোগ দেখা দেয় তবে মারাত্মক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

পূর্বে আলোচনা করেছি তারপরও আবার বলছি ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত প্রচণ্ড জ্বর এবং তীব্র শরীরে ব্যথা হয়। 105 ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর হয়ে থাকে। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠ, জয়েন্ট ও পেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথা ব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। কখনও কখনও ব্যথা এত তীব্র হয় যে মনে হয় হাড় ভেঙে যাচ্ছে। তাই এই জ্বরের আরেক নাম ‘ব্রেক বোন ফিভার’। জ্বরের চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা যায়। যাকে ত্বকের ফুসকুড়ি বলা হয়, অনেকটা অ্যালার্জি বা স্ক্র্যাচের মতো। এটি বমি বমি ভাব এবং এমনকি বমি দ্বারা অনুষঙ্গী হতে পারে। রোগী অত্যধিক ক্লান্তি এবং ক্ষুধা হ্রাস অনুভব করে।

ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার

এই অবস্থা সবচেয়ে জটিল। ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গ ছাড়াও এই জ্বরে অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয় যেমন:

  • শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তঝরা শুরু হয়।
  • এ রোগীদের অনেক সময় বুকে পানি, পেটে পানি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
  • অনেক সময় রোগীর লিভার আক্রান্ত হয় এবং জন্ডিস, কিডনি রোগের কারণে রেনাল ফেইলিউরের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডেঙ্গু শক সিনড্রোম

ডেঙ্গু জ্বরের সবচেয়ে খারাপ রূপ হল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। রক্তসঞ্চালন ব্যর্থতার সাথে ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের দিকে পরিচালিত করে।

এর লক্ষণগুলি হল: 

  • রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া।
  • খুব দুর্বল এবং দ্রুত পালস।
  • হাত-পা এবং শরীরের অন্যান্য অংশ ঠান্ডা। প্রস্রাব কমে যাওয়া।
  • হঠাৎ চেতনা হারানো।
  • ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম একটি অত্যন্ত জটিল পর্যায়। আইসিইউতে ম্যানেজ করতে হবে। লিভার, কিডনি, হার্ট, ফুসফুস সব ক্ষেত্রেই সমস্যা হতে পারে। সবকিছু পরীক্ষা করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। হিসেব করে শিরায় ফ্লুইড দিয়ে থাকে৷ এটা মাথায় রাখা উচিত এ পর্যায় কিছু মারা যেতে পারে ।

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়

কিভাবে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করা যায় ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্র হল এডিস মশার বিস্তার রোধ করা এবং এই মশাদের কামড় থেকে বিরত রাখা।

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা

মনে রাখবেন, এডিস একটি মৃদু মশা, তারা অভিজাত এলাকায় বড়, সুন্দর ভবনে বাস করে। এই মশা স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। তারা নোংরা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের জল পছন্দ করে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশা নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাড়ির চারপাশের ঝোপঝাড়, বন, জলাশয় পরিষ্কার রাখতে হবে।

যেহেতু এডিস মশা প্রধানত পরিষ্কার পানি জমে থাকা বস্তুতে ডিম পাড়ে, ফুলদানি, অব্যবহৃত বালতি, ক্যানের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদি ব্যবহৃত জিনিসপত্রে পানি জমতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

ঘরের বাথরুমে কোথাও জমা পানি যেন ৫ দিনের বেশি না থাকে। অ্যাকোয়ারিয়াম, রেফ্রিজারেটর বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচে পানি জমে থাকা উচিত নয়। এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য সময়েও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলায় শরীর ভালোভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, প্রয়োজনে মশা তাড়ানোর ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঘরের চারপাশে দরজা-জানালায় জাল লাগাতে হবে। দিনের বেলা ঘুমালে মশারি বা কয়েল লাগিয়ে ঘুমাতে হবে। যেসব শিশু স্কুলে যায় তাদের হাফপ্যান্টের বদলে ফুল প্যান্ট বা পায়জামা পরে স্কুলে পাঠাতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে সব সময় মশারির নিচে রাখতে হবে, যাতে কোনো মশা রোগীকে কামড়াতে না পারে।

মশার কামড় এড়াতে মশা তাড়ানোর স্প্রে, কয়েল, ম্যাট, মশা নিরোধক দিনরাত ব্যবহার করার ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর নির্মূল হতে পারে বা নাও হতে পারে। যেহেতু কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি, কোনো কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি।

ডেঙ্গু জ্বরের মশা আমাদের দেশে আগেও ছিল, এখনও মশার বংশবৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধির পরিবেশ রয়েছে। তাই ডেঙ্গু জ্বর ভবিষ্যতেও চলবে। শুধুমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এই ভাইরাসের বেঁচে থাকা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ 

ডেঙ্গু রোগীর খাবার তালিকা

ডেঙ্গুতে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেশী এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়। এর পাশাপাশি ত্বকে লাল ফুসকুড়িও দেখা দিতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর এ সময় খাবারের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে

যেসব খাবার আপনি বেশি খেতে পারেন:

পেঁপে পাতা
পেঁপে পাতা প্রচুর পরিমাণে প্যাপেইন এবং কাইমোপাপাইনের মতো এনজাইম রয়েছে, যা হজমে সাহায্য করে এবং প্লেটলেট বাড়ায়।

ডাবের পানি
ডেঙ্গু জ্বরের কারণে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে বোতলজাত পানি পান করা উপকারী। এ ছাড়া ডাবের পানিতে ইলেক্ট্রোলাইটের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

ডালিম
ডালিম পুষ্টি ও খনিজ উপাদানে ভরপুর একটি ফল। এটি শরীরের ক্লান্তি কমায়। ডালিমে রয়েছে প্রচুর আয়রন, যা রক্তের জন্য উপকারী। এ ছাড়া ডালিম প্লেটলেটের পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

হলুদ
ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে হলুদ একটি উপকারী খাদ্য উপাদান। ১ গ্লাস দুধের সাথে ১ চিমটি হলুদ মিশিয়ে নিয়মিত পান করলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে রোগী।

মেথি
মেথি সহজে ঘুমাতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এটি উচ্চ জ্বর কমায়, যা ডেঙ্গুর একটি সাধারণ উপসর্গ। কিন্তু মেথি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কমলা
কমলা এবং অন্যান্য ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল ডেঙ্গু জ্বরে খুবই উপকারী। ভিটামিন-সি ছাড়াও কমলায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ব্রকলি
ব্রোকলি ভিটামিন-কে এর একটি চমৎকার উৎস, যা প্লেটলেট বাড়াতে সাহায্য করে। প্লাটিলেট কাউন্ট খুব কম হলে ডেঙ্গু রোগীদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ব্রকলি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

পালং শাক
পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া এটি প্লেটলেট বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ডেঙ্গু রোগীর যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে:

তৈলাক্ত বা ভাজা খাবার
ডেঙ্গু জ্বর হলে তৈলাক্ত ও বেশি মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে এবং হালকা তেল ও মশলায় রান্না করা খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণ হতে পারে।

ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়
এই সময়ে শরীরের প্রচুর তরল প্রয়োজন। তবে সেক্ষেত্রে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় দ্রুত হৃদস্পন্দন, ক্লান্তি এবং পেশী ভাঙ্গনের কারণ। তাই ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে আরামদায়ক তরল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আমাদের কথা

আশা করি ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ, প্রতিকার এবং ডেঙ্গু রোগীদের খাবার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা পেয়েছেন। ডেঙ্গু রোগ থেকে বাচতে আসুন বাড়ীর আশপাশ পরিস্কার পরিছন্ন রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি নিজে বাচি অন্যকে বাচাতে সাহায্য করি। অঅজকের মত এখানে কথা হবে নতুন কোন বিষয়ে নতুন কোন পোস্টে ।

Sharing Is Caring:

3 thoughts on “ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ কি কি”

Leave a Comment