হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত ও অনুচিত

হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উচ্চ রক্তচাপ যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অভাবে অনেকেরই অল্প বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ হয়। আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উচ্চ রক্তচাপের কারণে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।

তাই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার কে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগ সহজে ধরা পড়ে না। আবার ধরা পড়ার পর যদি এর সঠিক চিকিৎসা না করা হয় বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকে তাহলে তা নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। আজকাল শুধু বয়স্ক মানুষই নয়, যেকোনো বয়সের মানুষই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়।

জেনে নিন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় যারা ভূগছেন তাদের কোন কোন খাবার গুলো খাওয়া উচিত ও কোন গুলো খাওয়া উচিত নয় ?

আলোচনার বিষয় সমূহঃ

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা

হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত ও অনুচিত
হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত ও অনুচিত

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার জন্য দুটি পন্থা ব্যবহার করা হয়- জীবনধারা পরিবর্তন এবং ওষুধ। কিছু ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র জীবনধারা পরিবর্তন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের প্রতিটি রোগীর উভয় ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন করতে বয়স, খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়।

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর আদৌ ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা তা জানতে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হবে। এই নিবন্ধটিতে আমরা একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় তুলে ধরেছি।

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের খাবারে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। কিছু খাবার একেবারে কমিয়ে বা বাদ দিতে হবে এমন টা নয়। এছাড়াও কিছু খাবার রয়েছে যা আপনার খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। নিচে হাইপারটেনসিভ রোগীদের ডায়েট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

হাইপারটেনসিভ রোগীদের উপর দীর্ঘ গবেষণায় দেখা গেছে যে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে-

খাদ্য তালিকা থেকে লবণ, চিনি, তেল ও চর্বির পরিমাণ কমাতে হবে।

বেশি করে ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য (যেমন লাল চাল এবং লাল আটা), চর্বিমুক্ত দুধ এবং টক দই খাওয়ার পরিমান বাড়াতে হবে। এ নিয়ে বিস্তারীত আলোচনা ধাপে ধাপ ধাপে করা হয়েছে আশা করি সম্পুর্ন নিবন্ধটি মনযোগ সহকারে পড়বে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বেশি করে ফল ও সবজি খাওয়ার উপায়

প্রতিবার খাওয়ার সময় প্লেটে কী কী সবজি আছে সেদিকে নজর দিতে হবে। রান্না করা সবজি না হলে সালাদ কেটে নিতে হবে। প্লেটে ভাত নেওয়ার আগে প্রথমে সবজি নিতে হবে।

প্লেটটি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে প্লেটের অর্ধেক ফল ও সবজি দিয়ে ভরা থাকে। প্লেটে ফল নিলে খাবার নষ্ট হয়ে গেলে পাশের আলাদা বাটিতে ফল নেওয়া যেতে পারে। তবে এমন পরিমাণে নিতে হবে যাতে ফল ও সবজি এক প্লেটে নিলে প্লেটের অর্ধেক ভরে যায়।

প্লেটের বাকি অর্ধেকের অর্ধেক, অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশ সাদা খাবার যেমন ভাত, রুটি এবং আলু থাকবে। এক্ষেত্রে লাল চালের ভাত ও লাল আটার রুটি খাওয়াই ভালো।

প্লেটের বাকি অংশে, অর্থাৎ শেষ প্রান্তিকে প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে মাছ, চর্বিহীন মাংস, শিম, মটরশুটি এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল। এছাড়াও কম চর্বিযুক্ত বা চর্বিহীন দুধ এবং টক দই খাওয়া যেতে পারে। এভাবে খাওয়ার উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে বেশি উপকারী খাবার খাওয়ার পরিমান বাড়ানো।

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় কি

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে যাদের রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই সমস্যাটি কাটিয়ে উঠতে পারেন। তাই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত প্রত্যেক রোগীর উচিত রক্তচাপ বাড়ায় এমন খাবার পরিহার করার পাশাপাশি সঠিক খাবার খেয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। তাহলে চলুন শরুতে জেনে নিই উচ্চ রক্তচাপে ভূগছেন এমন রোগীদের ভুলেও খাওয়া যাবে না এমন ৮টি খাবারের তালিকা।

হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত নয়

লবণ

লবণ
লবণ

উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে লবণই প্রথম খাবার যা রোগীদের বেশি ক্ষতিকরের তালিকায় রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হল শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমা হওয়া। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের জন্য লবণ খুবই ক্ষতিকর। তাই খুব সীমিত পরিমাণে লবণ দিয়ে খাবার খান। খাবারের সাথে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন এবং উচ্চ লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। এছাড়াও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বীট লবণ এবং অন্যান্য সুস্বাদু লবণ যুক্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে এড়িয়ে চলুন।

এখন দেখে নেই কিভাবে লবণ খাওয়া কমাবেন-

লবণ খাওয়া কমানোর উপায়

ভাত খাওয়ার সময় কাঁচা লবণ আলাদা করে খাওয়া যাবে না। টেবিল থেকে লবণ শেকার অপসারণ করা ভাল। কারণ চোখের সামনে বা হাতের কাছে থাকলে কেউ লবণ নিতে চাইতে পারে।

তরকারিতে লবণ কম দিতে হবে। অনেকে মনে করেন শুধু কাঁচা লবণ খেলে রক্তচাপ বাড়ে, রান্না করে লবণ খেলে কোনো সমস্যা হয় না। এটা সঠিক নয়।

লবণ, কাঁচা বা রান্না সবটাতে সোডিয়াম থাকে। আর সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়ায়। তাই কম লবণ দিয়ে রান্না করুন। সুস্বাদু করতে আপনি অন্যান্য মশলা, ধনে পাতা, লেবু পাতা এবং পুদিনা পাতা ব্যবহার করতে পারেন।

রান্নার বিভিন্ন উপকরণে কী পরিমাণ লবণ আছে তা খেয়াল করতে হবে। সয়া সস, মেয়োনিজ, খামির, বিট লবণ, টেস্টিং সল্ট—এগুলোতে অতিরিক্ত লবণ থাকে। এগুলোর বিকল্প ব্যবহার করতে হবে। বিট সল্ট এবং টেস্টিং সল্টের পরিবর্তে সাধারণ লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে, মেয়োনিজের পরিবর্তে টক দই ব্যবহার করা যেতে পারে, সাধারণ সয়া সসের পরিবর্তে কম সোডিয়াম সয়া সস ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঘরে তৈরি খাবারের মধ্যে ভর্তা ও আচারে বেশি লবণ ব্যবহার করা হয়। চিংড়ি, মাছ এবং পনিরের মতো কিছু খাবারে স্বাভাবিকভাবেই লবণ বেশি থাকে। এগুলো পরিহার করা উচিত। যদি খেতেই হয় তবে কম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

বাজার থেকে কেনা খাবার, রাস্তার পাশের ফুটফাতে দোকানের খাবার, হোটেল বা রেস্তোরাঁর খাবার- এগুলো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। এসব খাবারে কী পরিমাণ লবণ ব্যবহার করা হয় সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। এগুলিকে আরও সুস্বাদু করতে সাধারণত একটু বেশি লবণ যোগ করা হয়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

দোকানে বিভিন্ন সস এবং কেচাপ জাতীয় খাবার খাওয়ার আগে, বোতল এবং প্যাকেটের লেবেল বা প্যাকেজিং সাবধানে পড়া উচিত। এগুলিতে সাধারণত প্রচুর লবণ থাকে।

তবে নুডুলস, কাবাবসহ বিভিন্ন স্ন্যাকসের সঙ্গে সস বা কেচাপ খেতে অনেকেই অভ্যস্ত। তাই এগুলো পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া সম্ভব না হলে কম লবণ দিয়ে সস ও কেচাপ বাড়িতেই তৈরি করা যেতে পারে।

পুরি, সিঙ্গারা, চপস, নুডুলস, চিপস, স্যান্ডউইচ খাওয়ার পরিবর্তে আপনি সকালের নাস্তায় ফল এবং সালাদ খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। তবে এগুলো খাওয়ার সময় বেশি লবণ দিয়ে খাওয়া যাবে না।

বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন নুডুলস, পাস্তা, সসেজ, টিনজাত খাবার এবং কর্ন ফ্লেক্সের মতো সিরিয়াল কেনার সময় প্যাকেটে লেখা লবণের পরিমাণ দেখতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার কেনার চেষ্টা করুন যাতে লবণ কম থাকে।

রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে পোলাও বা ভাজা ভাতের পরিবর্তে সাদা ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ফাস্ট ফুড এবং বেকারি খাবার

বর্তমান যুগে ফাস্টফুড খাওয়া অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। প্যাকেটজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে সবচেয়ে বেশি হাইপারটেনসিভ উপাদান থাকে। অনেকেই জানেন না যে এই ফাস্ট ফুড এবং বেকারি পণ্যগুলিতে সোডিয়াম, প্রিজারভেটিভ, বিষাক্ত রং এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে এই খাবার গুলোতে। এই উপাদানগুলো উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এছাড়া তেলে ভাজা বা বেশি চর্বি যুক্ত সুস্বাদু খাবারও এড়িয়ে চলা উচিত।

কফি

কফি পানকারীদের জন্য খারাপ খবর হল কফি সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের জন্য কফি খাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ক্যাফেইন রক্তনালীকে সংকুচিত করে, ফলে হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। তাই, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কফি ও অতিরিক্ত চা না খেয়ে প্রতিদিন এক কাপ গ্রিন টি পান করে চা বা কফি থেকে আনেস্ত আস্তে সরে আসার চেষ্টা করুন।

লাল মাংস

উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে লাল মাংস অর্থাৎ গরুর মাংস এবং মহিষের মাংস পরিহার করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ এই সমস্ত রেড মিটে খারাপ কোলেস্টেরল বেশি থাকে যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মুরগির চামড়া এবং ডিমের কুসুম

উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা মুরগির চামড়া ও ডিমের কুসুম খেলে রক্তচাপ বহুগনে বৃদ্ধি পায়। এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাছাড়া মুরগির চামড়ায় উচ্চ মাত্রায় চর্বি থাকে যা মানবদেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।  চর্বি ও ওজন কমাতে এই পোস্টটি পড়ুন- কিভাবে ওজন কমানো যায়

চিনিযুক্ত খাবার

অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ এই খাবারগুলো আমাদের শরীরে চর্বি জমতে সাহায্য করে ফলস্বরূপ শরীরের ওজন বাড়ে এবং মোটা করে দেয়। অনেকেই আছেন যারা অতিরিক্ত ওজনের কারণে উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগে ভোগেন। তাছাড়া অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাই মিষ্টি কিছু খেতে চাইলে চিনির বদলে একটু মধু খেতে পারেন।

প্রতি সপ্তাহে আপনার কালিকায় থাকা সমস্ত খাবারে ৫ টেবিল চামচের কম চিনি রাখার চেষ্ট করুন।

কোক, সেভেন আপ ইত্যাদি কোমল পানীয়তে প্রচুর চিনি থাকে। এগুলোকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। এগুলোর পরিবর্তে পানি পান করার অভ্যাস করা উচিত।

লবণ, তেল ও চিনির মতো রান্নার বিভিন্ন উপকরণ ও খাবারে লুকিয়ে থাকে। তাই সতর্কতার সাথে খাবার রান্না ও খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

আচার এবং সস জাতীয় খাবার

উচ্চ চাপে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের আচার ও সস একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। কারণ আচার এবং সসে প্রচুর পরিমাণে লবণ ও চিনি থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়।

অ্যালকোহল এবং কোমল পানীয়

অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করলে রক্তচাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এটাও মনে রাখতে হবে যে অ্যালকোহল এবং কোমল পানীয়তে ক্যালোরি বেশি থাকে যা ওজন বাড়ায়। তাই অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় বা কোমল পানীয় পানের পরিবর্তে তাজা ফলের রস বা লেবুর রস পান করুন। যা স্বাস্থ্যকর।

এছাড়াও ননি বা চর্বিযুক্ত দুধ কখনই খাবেন না। দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের মধ্যে, নন-ডেইরি দুধ, টক দই খেতে পারেন।

হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত

হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত
হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে আঙ্গুর

পটাসিয়াম একটি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক, যা কিডনিকে সোডিয়াম নিষ্কাশন করতে এবং রক্তনালীগুলিকে শিথিল করতে সহায়তা করে। পটাসিয়াম এবং ফসফরাস পূর্ণ ফল হল আঙ্গুর যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহাজ্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কলা

আগেই বলা হয়েছে, কলা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পারে। একটি কলাতে ৪৫০ মিলিগ্রামের মত পটাসিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিন কলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তলা উচিত, কলা খেলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ধীরে ধীরে কমতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পেঁয়াজ

পেঁয়াজে এডিনোসিন থাকে। এটি পেশী শিথিল করে। পেঁয়াজ উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চিকিৎসায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। কাঁচা পেঁয়াজের রসও খেতে পারেন। আপনি যদি রসের স্বাদ পছন্দ না করেন তবে আপনি এতে সামান্য মধু যোগ করে নিয়মিত খেতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে রসুন

রসুন ধমনী ও শিরায় জমে থাকা কোলেস্টেরল দ্রবীভূত করতে সাহায্য করে। এটি রক্তের প্রবাহ বাড়াতে এবং রক্তচাপ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। তাই নিয়মিত রসুন খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য ভাল কাজে দেয়। এছাড়াও  রসুনের স্বাস্থ্য উপকারিতা ক্লিক এই পোস্ট থেকে জেনে নিতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ডাবের পানি

ডাবের পানিতে রয়েছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। এই উপাদানগুলো উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে তরমুজ

তরমুজে রয়েছে আরজিনিন। এটি একটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ধনে পাতা

ধনে পাতায় প্রচুর পরিমাণে বায়োঅ্যাকটিভ রয়েছে। যেমন- অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট বৈশিষ্ট্য। তাই ধনেপাতা খেলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের সমস্যা কমতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পাতিলেবু

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু হৃৎপিণ্ডের সূক্ষ্ম জাহাজের শক্তি বাড়ায়। এটি উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহাজ্য করে।

আমাদের অন্যান্য পোষ্ট সমুহ:

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া প্রতিকার

খাদ্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, উচ্চ রক্তচাপ কমাতে আরও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে যা মেনে চলা অত্যান্ত জরুরী তাহ হলো:

অতিরিক্ত ওজন হ্রাস

প্রতি ১ কেজি অতিরিক্ত ওজন কমানোর সাথে সাথে রক্তচাপ সাধারণত ১ পয়েন্ট কমে যায়। তাই আপনার ওজন বেশি হলে তা কমানোর চেষ্টা করুন। পেট বা কোমর পরিমাপ মহিলাদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা উচিত যেন তাদের পেট বা কোমর ৩১.৫ ইঞ্চির কম থাকে এবং পুরুষদের লক্ষ্য করা উচিত যাতে ৩৭ ইঞ্চির কম থাকে।

নিয়মিত ব্যায়াম

সপ্তাহে আড়াই ঘন্টা নিয়মিত ব্যায়াম করলে রক্তচাপ ৫ পয়েন্ট পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তাই সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন আধা ঘণ্টা পরিমিত ব্যায়াম করা উচিত। পরিমিত ব্যায়ামের মধ্যে রয়েছে দ্রুত হাঁটা এবং সাইকেল চালানো।

ধূমপান করবেন না

ধূমপান এবং উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ধূমপান ত্যাগ করা খুবই জরুরি। ধূমপান ত্যাগ করতে চাই আমাদের এই পোস্টে শেয়ার করা ট্রিক গুলো ব্যবহার করতে পারেন- ধূমপান প্রাকৃতিক উপায়ে কী ছাড়তে চান ?

আরও পড়ুনঃ 

আমাদের কথা

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায় না। যাইহোক, বেশ কয়েকটি কারণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করে এই ঝুঁকিগুলির হ্রাস করা যেতে পারে। এইভাবে, উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা যায় এবং আপনি যদি ইতিমধ্যে উচ্চ রক্তচাপে ভুগেন তবে আমাদের শেয়ার করা পদ্ধতি অনুসরন করে তার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে পারেন।

Sharing Is Caring:

2 thoughts on “হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত ও অনুচিত”

Leave a Comment